নারী সহকর্মীর যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাল্ক ইনস্টিটিউট ছাড়ছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী সাচিন পান্ডা
যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত সাল্ক ইনস্টিটিউট থেকে পদত্যাগ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী ড. সচিদানন্দ (সাচিন) পান্ডা। ২২ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স’ জানিয়েছে, আগামী ১৩ আগস্ট থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন।
পঞ্চাশোর্ধ্ব পান্ডা সম্প্রতি প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন। তার গবেষণাগারে কর্মরত এক নারী গবেষণা সহকারী কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ আনার পর সাল্ক ইনস্টিটিউট তদন্ত শুরু করে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ওই নারী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরে তিনি স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
সাচিন পান্ডা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ‘সায়েন্স’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক ই-মেইলে তিনি বলেন, তার গবেষণা দল এবং পুরো প্রতিষ্ঠানে সবার জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সবসময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটিই তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি পান্ডার বিরুদ্ধে সাল্ক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় তদন্ত। প্রায় আট বছর আগে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ইন্দর ভার্মাও যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় অন্তত আট নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাচিন পান্ডা সহকর্মীদের কাছে পাঠানো আলাদা এক ই-মেইলে বলেছেন, তিনি এখন গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চান। সার্কাডিয়ান রিদম (শরীরের অভ্যন্তরীণ ২৪ ঘণ্টার জৈব ঘড়ি) নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার অগ্রগতি মানুষের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে একটি বই লেখার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
সার্কাডিয়ান রিদম এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে পান্ডার গবেষণা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শরীরের জৈব ঘড়ির ভূমিকা নিয়ে তাঁর কাজ সাল্ক ইনস্টিটিউটকে কোটি কোটি ডলারের অনুদান এনে দিয়েছে। তিনি দুটি বইয়ের লেখক এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত গবেষকদের একজন। ২০২৩ সালে তিনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের ফেলো নির্বাচিত হন।