বাস থেকে নামিয়ে যুবককে মারধর, উদ্ধারকারী স্বজনদের ওপরও হামলার অভিযোগ
বরিশালের মুলাদীতে বাস থেকে নামিয়ে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে যাওয়া স্বজনদের ওপরও হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে শ্রমিক দলের নেতাসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার মুলাদী-হিজলা সেতুর পশ্চিমপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হিজলা উপজেলার মাউলতলা গ্রামের প্রান্ত রায় (২০), সুকুমার রায় (৪৫), জয় মিস্ত্রী (২২), জয়ন্ত মিস্ত্রী (২০), সিজন রায়সহ (১৪) আটজন মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছেন। সুকুমার রায় হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার হিজলার মাউলতলা গ্রামে নারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে মুলাদী বন্দরের বাসিন্দা অঙ্কুর চৌধুরীকে মারধর করেন প্রান্ত রায় ও তাঁর সঙ্গীরা। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মুলাদী বন্দরে এক সালিসে বিষয়টি মীমাংসা হয়। আজ দুপুরে প্রান্ত রায় চিকিৎসার জন্য বাসে করে বরিশাল যাচ্ছিলেন। বাসটি মুলাদী সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে অঙ্কুর চৌধুরী (২৪), তাঁর ভাই রাহুল চৌধুরী (২৮) ও তনু চৌধুরীসহ (২০) ১২-১৫ জন মিলে বাসটি থামান। পরে প্রান্তকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
খবর পেয়ে প্রান্ত রায়ের স্বজন ও মাউলতলা গ্রামের বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হিজলা থেকে মুলাদী বন্দরের দিকে রওনা হন। এরপর বেলা ২টার দিকে তাঁরা মুলাদী-হিজলা সেতুর পশ্চিমপাড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রাহুল চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীরা পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এ ব্যাপারে মুলাদী বন্দরের বাসিন্দা অভিযুক্ত রাহুল চৌধুরী হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, হাতাহাতির জেরে প্রান্ত রায়ের স্বজনেরা হিজলা থেকে মুলাদী বন্দরে এসে হামলা চালান। তাঁদের বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ হয় এবং দুই পক্ষের লোকজন আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।