যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা, চঞ্চল মোল্লা ৩ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্লাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। চঞ্চল মোল্লা এলাকায় শুটার চঞ্চল নামে পরিচিত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে কাফরুল থানা–পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী ভূঁইয়া আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তরের নির্ভরযোগ্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ১৩ নম্বরে শেরেবাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজন স্থানীয় ইউসুফ আলীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি ইউসুফের বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা তিনজনকেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ আলী মারা যান। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দিকে ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে স্থানীয় ও উপস্থিত জনগণ চঞ্চল মোল্লাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও চঞ্চল মোল্লার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে।