পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের জামিয়াতুস সুন্নাহ আবাসিক হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে চুরির অপবাদ দিয়ে বেত্রাঘাত ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক সোহানুর রহমান সোহানের বিরুদ্ধে। গত সোমবারের এই ঘটনার ভিডিও মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। অভিযুক্ত সোহানুর রহমান সোহান (২৫) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক। গুরুতর জখম হওয়া মাহফুজুর রহমান (১৩) দিনাজপুর সদর থানার গণির মোড়ে নতুনপাড়া এলাকার সাগর হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার মাহফুজুর রহমানকে দফায় দফায় বেত ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন শিক্ষক সোহানুর রহমান সোহান। একপর্যায়ে শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সোহানকে গণপিটুনি দেন। পরে তাকে আটকে রেখে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও আক্রান্ত শিশু শিক্ষার্থীকে স্থানীয়দের সহায়তায় থানায় আনা হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিশুটিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার অভিযুক্ত শিক্ষক সোহানকে ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে স্থানীয় ওমর ফারুকের জিম্মায় দেওয়া হয়। আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।