সংবাদ প্রকাশের পর উখিয়ায় অবৈধ কেক-রুটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও কারখানা তালাবদ্ধ
মুসলিম উদ্দিন :ঢাকা থেকে প্রকাশিত "দৈনিক খোলা কাগজ" এবং জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল "কক্সনিউজে" অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়েছে। সংবাদ প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার কোর্টবাজার এলাকায় অবৈধ, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক ও রুটি তৈরির কারখানায় এ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত "পিউরেক্স" ফুড প্রোডাক্টস নামের ওই কারখানাকে ভোক্তা-অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য আইনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে বিএসটিআই'র অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সকল বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়। কারখানাটি যেন পুনরায় গোপনে চালু হতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল উদ্দিন নেজামকে সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।জানা যায়, উখিয়ার কোর্টবাজার ২নং রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যরত্নাপালং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গোপন ডেরা বানিয়ে "পিউরেক্স" ব্র্যান্ডের নামে বিভিন্ন ধরণের কেক ও বনরুটি তৈরি করা হচ্ছিল। এসব খাদ্যে কোনো প্রকার গুণগত মান না মেনে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া বিএসটিআই (BSTI) সিল মেরে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই বিষাক্ত ও ভেজাল খাবার কিনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিল।বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিক "দৈনিক খোলা কাগজ" এবং অনলাইন পোর্টাল "কক্সনিউজে" "শিশুদের পেটে যাচ্ছে বিষাক্ত খাবার" শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, "জনস্বাস্থ্যের হুমকি ও অনুমোদন ছাড়া ভুয়া সিল ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য তৈরির বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সাড়ে ১২টার দিকে আমরা সরেজমিনে এ অভিযান পরিচালনা করি। অপরাধ স্বীকার করায় কারখানার সংশ্লিষ্ট মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র না দেখানো পর্যন্ত কারখানাটি তালাবদ্ধ থাকবে এবং বিষয়টি তদারকির জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে ভেজাল ও অবৈধ খাদ্য কারখানার বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"দৈনিক খোলা কাগজ ও কক্সনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপ ও কঠোর অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা। জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় তারা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।