Cox News

আবদুর রহমান বদি

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাকি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আবদুর রহমান বদি, র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর অবসরপ্রাপ্ত রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ ওরফে রাজু এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যখন র‍্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তখনো তাদের বিবৃতিতে একরাম হত্যার প্রসঙ্গ এসেছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছিলেন তখন র‍্যাবের দায়িত্বে থাকা বেনজীর আহমেদ ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি দুবাইতে আটক হয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল ফোন অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এ সব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও বদির নাম এসেছে। ২০১৮ সালের ২৬ মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছিলেন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। তখন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই অডিও রেকর্ড পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের শোনানো হয়েছিল। একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম তখন বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন যে তার স্বামীকে ডিজিএফআই এবং র‍্যাবের স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি যে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছিলেন তাতে একরামুল হকের সাথে তার মেয়ের কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। ওই কথোপকথনের এক পর্যায়ে একরামের কন্যাকে বলতে শোনা গিয়েছিল যে ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে...’। এরপরেই গুলি ও গোঙানির শব্দও শোনা গিয়েছিল। পরে এই অডিও রেকর্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছি। পাশাপাশি ওই টিমে কারা কারা ছিল, যারা অংশগ্রহণ করেছে তারাও। ইতোমধ্যেও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন যে যিনি ওই অপারেশনে ছিলেন। তিনি ওই গাড়িতে ছিলেন। যারা এই অপারেশনে সম্পৃক্ত ছিল তাদের সবার নাম এসেছে।’ পরে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন একরামের স্ত্রী আয়শা বেগম। তিনি তখন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন যে, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির প্রত্যক্ষ ইন্ধনে তখনকার র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে খুন করেছেন। বদি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। এ মামলার পর আগে থেকেই অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক থাকা বদিকে এই মামলাতেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়। সূত্র : বিবিসি

আবদুর রহমান বদি