Cox News

১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের একদল সচেতন নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোটে জনগণের দেয়া স্পষ্ট রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অনীহার পরিচয় দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই রায় রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তাই রাষ্ট্রের মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের এই মতামতের প্রতিফলন ঘটানো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। নাগরিকরা বলেন, গণভোটের রায় জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সরকার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার না করেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সাংবিধানিক রূপান্তরের কার্যকর পথ নিশ্চিত করা জরুরি। যৌথ বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—জুলাই সনদে দেয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে দেয়া জনগণের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। বিবৃতিতে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকদের গণভোটের রায়, গণসার্বভৌমত্ব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফারুকী, ব্যারিস্টার মুস্তফা শাকেরুল্লাহ, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, জুলাই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবু প্রান্তর, আহত জুলাই যোদ্ধা নুরা জেরিন ও সালমান শরীফসহ ৪১ জন।

১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি