বরিশাল বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে একই বিভাগের একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের অপসারণ দাবি করেছেন। আজ বুধবার এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে আজকের পত্রিকাকে জানান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে এসে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের একজন শিক্ষক ছাত্রীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ দেন অধ্যক্ষের কাছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাজে মন্তব্য করেছেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর নিয়েও ছাত্রীদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে তাঁরা ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার করা ছাড়াও নোট বিক্রি করেন এবং অর্থের বিনিময়ে ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন। তবে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভাগে আমার কোনো শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ নেই। মাস্টার্সের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ২৭৬ জন শিক্ষার্থী আছে। আর একটি হলো নোটিস বোর্ড ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সেখানে এমন কোনো মন্তব্য করিনি, যা কুরুচিপূর্ণ আচরণ হতে পারে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীরা যে কমেন্টসের কথা বলছে, তা ছয়-সাত মাস আগের। এটা নিছক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিএম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাবের হোসেন বলেন, বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার স্পর্শকাতর বিষয়। তদন্ত ছাড়া এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। তবে তাঁরা এ ঘটনার ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।