Cox News

চট্টগ্রামে বন্যা: বন্যার্তরা পেলেন মাত্র দেড় কেজি করে চাল

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সরকারি ত্রাণ (নগদ টাকা ও চাল) বিতরণ এখনো অপর্যাপ্ত। বন্যা শুরু (৫ জুলাই) হওয়ার ১৯ দিন পরও খুবই ঢিমেতালে চলছে এই কার্যক্রম। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় চট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ। চট্টগ্রামে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার। সেই হিসাবে একজনের ভাগে জুটেছে গড়ে ১০ টাকা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের জন্য ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। সামনের দিনগুলোতে ব্যয় করার জন্য টাকা অবশিষ্ট রয়েছে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এবারের বন্যায় সরকারের তরফে চট্টগ্রামে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বন্যার্তদের মাঝে। মজুত রয়েছে ৩০৫ টন। সেই হিসাবে প্রতিজন বন্যার্ত মানুষ চাল পেয়েছে গড়ে মাত্র দেড় কেজি করে। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকার থেকে পাওয়া ৯৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ৫০০ টন চালের মধ্যে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করেছি।’ বরাদ্দ পাওয়া ১ হাজার ৫০০ টন চালের মধ্যে ১ হাজার ১৯৫ টন বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। বরাদ্দ করা এসব ত্রাণ পর্যাপ্ত কি না এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা যা পাচ্ছি তা বিতরণ করে দিচ্ছি।’ এ বিষয়ে জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাঁশখালা গ্রামের বাসিন্দা নুরতাজ বেগম বলেন, ‘বন্যার পানিতে কয়েক দিন টানা ভেসেছি। মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরে থাকা ধান, চাল, ডালও নষ্ট। কিন্তু ত্রাণ সহায়তা পেয়েছি সামান্য।’ এখন ত্রাণের চেয়ে ঘর নির্মাণ নিয়েই টেনশন বেশি বলেও জানালেন নুরতাজ। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী উপজেলার ডোংবা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুল হক বলেন, ‘বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়েছি। বাড়িতে খাবার নেই। সরকারি-বেসরকারি সাহায্যও পর্যাপ্ত পাইনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব খারাপ অবস্থায় আছি।’

চট্টগ্রামে বন্যা: বন্যার্তরা পেলেন মাত্র দেড় কেজি করে চাল