ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে পাহাড়ি—আমরা তা দেখব না, আমরা সবাই মানুষ, এটাই আমাদের বড় পরিচয়। এই দেশ আমার মাতৃভূমি, এই দেশে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। অতএব পাহাড়ি বলে বা অন্য কোনো পরিচয়ে কাউকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার বা সুযোগ কম দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় ‘অনগ্রসর’ শব্দটি রাখতে চাই না। আমি তাদের অগ্রসর বা সমান রাখতে চাই। গারো, হাজং বা অন্যান্য আদিবাসী ভাই-বোনদের নিয়ে একই সমাজে বসবাস করতে চাই, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করতে চাই।’
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যাদের ঘর নেই, তাদের জন্য দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় ২০টি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ি জনগণের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বিশেষ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে, মন্দির ও গির্জা মেরামত করা হয়েছে। বর্ডার রোডের সঙ্গে বাড়িঘরের সংযোগ স্থাপনের জন্য নতুন রাস্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন এলাকায় লাইট স্থাপনসহ নদীভাঙন রোধে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনগ্রসর নারীদের স্বনির্ভরতা অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে যাদের সেলাই মেশিন দেওয়া হচ্ছে, তা বিক্রি করার জন্য নয়। এটি দিয়ে আপনারা নিজেদের ও আশপাশের মানুষের কাপড় সেলাই করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কাজ করে খেতে লজ্জার কিছু নেই।’
উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তোমাদের জন্য যে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এটি উৎসাহস্বরূপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটি তোমাদের জন্য উপহার ও অনুপ্রেরণা। তোমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করবে এবং ভালো ফল করবে, এটাই তোমাদের কাছে চাওয়া। যারা ভালো ফলাফল অর্জন করবে, চাকরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো দলীয় বা মতাদর্শিক ভেদাভেদ না দেখে আমি নিজে সুপারিশ করব।’
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩২ জন দরিদ্র ও অসহায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ উপবৃত্তি প্রদান করা হয়, যেখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৬৪ জনকে পাঁচ হাজার টাকা এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৯৬ জনকে সাত হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি পরিবারকে বসতঘর প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল উমর ফারুক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীপা বিশ্বাসসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।