বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ম্যুরাল পুনঃস্থাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোঃ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ম্যুরাল পুনঃস্থাপন নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভার শুরুতেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেজ ভাইয়ের ছেলে হাফিজুর রহমান ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি ভাস্কর্যটি আগে যে স্থানে ছিল, সেখানেই পুনঃস্থাপনের দাবি জানানোর পাশাপাশি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন।
তবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল মাখন বক্তব্য দেওয়ার সময় দাবি করেন, জেলা শহরের প্রবেশমুখে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার চার রাস্তার মোড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর বা কোনো ভাস্কর্য বলে আদৌ কিছু ছিল না। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়।
এরপর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান (যুগান্তর প্রতিনিধি) বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন নেতা পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা ভাস্কর্য ভাঙচুরের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা বলে মনে করছেন উপস্থিত অনেকে। এতে সভায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়ে পড়েন।
শেষ পর্যন্ত ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের স্থান নির্বাচনের জন্য ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে ভাঙচুরের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত বা কার নির্দেশে এ কাজ হয়েছে, তা নিয়ে সভায় কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ভাস্কর্যের বেদির একটি বড় অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে বলে জানা গেছে।
সভা শেষে বিকেল ৩টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বোনসহ পরিবারের ৫ সদস্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তারা ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানেই পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেজ ভাই হামজুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের চার রাস্তার মোড়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর বাস্তবায়নে ছিল ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিস বিন হাসান; ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুর রহমান; জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ; মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ মাস্টার; জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুজ্জামান মনা; জেলা বাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুর রহমান; গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।