অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
অনলাইন জুয়া থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার সিআইডির একটি বিশেষ দল নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নরসিংদী জেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪৬), মো. সোহেল (৩৭), মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩) ও আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮)।
সিআইডি জানায়, নরসিংদীর রায়পুরার রেলগেট কলেজ মার্কেট এলাকা থেকে রফিকুল, মনোহরদীর নোয়াদীয়া গ্রামের মৌলভী বাড়ি এলাকা থেকে সোহেল, মনোহরদী থানার সামনে থেকে শফিকুল ও রুবেল এবং নয়াদরাকান্দিয়া এলাকা থেকে আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল, ২০টি সিম কার্ড ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশ ও বিদেশ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। পরে এসব হিসাব বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো।
এ ঘটনায় গত ১৯ মে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করে।
সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মোবাইল, সিম কার্ড, ব্যাংক হিসাব ও চেকবইসহ জব্দ আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে। এর মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্য, আর্থিক লেনদেনের ধরন ও অর্থের গতিপথ শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চক্রটির সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেন করা অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনলাইন বেটিং সাইটের পরিচালনাকারী, এজেন্ট, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।