পছন্দের শাড়ি কিনে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় স্বামীকে হত্যা করার অভিযোগে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার তথ্য উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নারী সুনীতাদেবী হরেরাম সিংহ (৩০) বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই থানে জেলার বাদলাপুর পূর্ব এলাকার বাসায় স্বামী হরেরাম কিশুনজি সিংহ (৩৫) ও সুনীতাদেবীর মধ্যে শাড়ি কেনা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য, বিরোধের এক পর্যায়ে সুনীতাদেবী প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে স্বামীকে আঘাত করেন। পরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সুনীতাদেবী পুলিশকে জানান, স্বামীর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা (এডিআর) নথিভুক্ত করা হয়। তবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধজনিত অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে। এরপরই ঘটনার তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ময়নাতদন্তে সহিংস উপায়ে শ্বাসরোধের প্রমাণ পাওয়ার পাশাপাশি নিহতের স্বজন ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলার পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। বাদলাপুর পূর্ব থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক নীতিন পাতিল বলেন, ‘চিকিৎসা প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শ্বাসরোধের ফলে অস্বাভাবিকভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে নিহতের পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়।’ মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্থানীয় আদালত অভিযুক্ত সুনীতাদেবীকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও অন্যান্য বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।