Cox News

সমাজ পরিবর্তনে আলেমদের নেতৃত্ব দিতে হবে: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী

ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার আল্লামা খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী।  তিনি বলেন, আমরা প্রাচ্যের লোকেরা দর্শন কপচাই, আর পশ্চিমারা কাজ করে দেখিয়ে দেয়। এখন সময় এসেছে জ্ঞানকে কর্মে রূপ দেওয়ার। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর উত্তরায় দ্বীনিয়াত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আলোকিত সমাজ গঠনে চিন্তাশীল আলেমদের করণীয়’ শীর্ষক ‘ফিকরি মজলিস’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  আলোচনায় আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, জ্ঞানকে দুনিয়াবি ও দ্বীনি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার আমি ঘোর বিরোধী। এটি ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামে জ্ঞান মাত্র দুই ধরনের—উপকারী (নাফে) এবং অনুপকারী (গাইরে নাফে)। যে জ্ঞান মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আসে, সেটিই প্রকৃত উপকারী জ্ঞান। তিনি বলেন, আমাদের আকাবির ইংরেজ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন, কিন্তু ইংরেজি ভাষার বিরুদ্ধে ছিলেন না। একটি ভাষা কখনো শত্রু হতে পারে না। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা শেখা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় নয়। বিজ্ঞান ও ইসলামের সম্পর্ক তুলে ধরে আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, পৃথিবীতে বিজ্ঞানচর্চার প্রকৃত সূচনা হয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে। তার আগমনের আগে মানুষ প্রকৃতির নানা উপাদানকে উপাস্য মনে করত। যাকে উপাসনা করা হয়, তাকে নিয়ে মুক্ত গবেষণা সম্ভব নয়। নবীজি (সা.) ঘোষণা করলেন—ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ। মানুষ কেবল তারই বান্দা। এর ফলে সৃষ্টি জগতকে গবেষণা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হিসেবে দেখার পথ উন্মুক্ত হয় এবং বিজ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনবাংলাদেশকে মুসলিম দেশগুলোর জন্য নমুনা হিসেবে গড়ে তুলুন: সাজ্জাদ নোমানী তিনি আরও বলেন, মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণ, তরুণ প্রজন্মের নৈতিক বিকাশ এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো আজ সময়ের অন্যতম দাবি। আলেমদেরও এ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সফররত উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক আল্লামা খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গবেষণামূলক চিন্তা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত।  বাংলাদেশে তার প্রতিটি সফরেই তিনি মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ, সমাজ সংস্কার এবং যুগোপযোগী শিক্ষা-ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।

সমাজ পরিবর্তনে আলেমদের নেতৃত্ব দিতে হবে: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী