Cox News

সহপাঠী-রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া তার প্রেমিককে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড করে আসছেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে হলে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর আবিদ নামে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাকে গোপনে বিভিন্ন সময় হলের মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে পাঠাতেন। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপড়েনে আবিদ তার কাছে ঐশীর পাঠানো ছবিগুলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে হলের পরিচিত ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠাতে থাকেন। ভুক্তভোগী ও হলের শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেয়েদের বসে থাকা, ওড়না ছাড়া, টিশার্ট পরা ও ঘুমন্ত অবস্থাসহ বিভিন্ন আপত্তিকর অবস্থার ছবি তুলে তার প্রেমিককে পাঠিয়েছে। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরে এমন ছাত্রীদের পর্দার আড়ালের ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রী। তার প্রেমিকের পাঠানো ছবিগুলো থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ছাত্রীর ছবি শনাক্ত করেছেন তারা। অভিযোগের সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন।  অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী যুগান্তরকে বলেন, আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে এসব ছবি তাকে (প্রেমিক) পাঠিয়েছি। সে আমাকে একের পর এক ভিডিও কল দেওয়ায় আমি কোন পরিস্থিতিতে আছি সেটা বুঝাতে রুমমেটদের ছবি পাঠাতাম। এছাড়া তারাও (রুমমেট) ওই ছেলেকে চিনতেন। এমনকি তিনি দেশে এলে তারা ওর সঙ্গে দেখা করে ট্রিট নিয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে এখন বিয়েতে রাজি হইনি। তাই তিনি এখন আমার বিভিন্ন সময়ে পাঠানো ছবিগুলো নিয়ে প্রত্যেককে ইনবক্স করে এসব শুরু করেছে। আমি খুব বাজেভাবে ফেঁসে গেছি।  অভিযুক্তের প্রেমিক লন্ডন প্রবাসী আবিদ যুগান্তরকে বলেন, তার (অভিযুক্ত ঐশী) একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেসবের ছবি, ভিডিওসহ সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। আর ও (ঐশী) অন্যান্য মেয়েদের ছবি পাঠালে আমি নিষেধ করলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ত। মনে হতো যেন এসব করে ও পৈশাচিক আনন্দ পায়। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এমনটা করতে পারে না। আমি ওই মেয়ের পেছনে অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করেছি। দুই মাস আগে শুধু তার জন্যই আমি লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এখন তার আসল চরিত্র সবার সামনে প্রকাশ পাচ্ছে। এই মেয়ে আমার জীবনটাই নষ্ট করে দিয়েছে। আমি তার বিচার চাই। এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. একেএম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর জরুরি মিটিং করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আর অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই মেয়েকে তার বাবার জিম্মায় দিয়ে দিয়েছি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। শনিবার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্তের রিপোর্ট প্রদান করব।

সহপাঠী-রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন ইবি ছাত্রী