মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা একটি ‘রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের কৌশল’ (পলিটিক্যাল পোস্টারিং)।
রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শনিবার (১ আগস্ট) এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ব্যক্তিপূজার রাজনীতিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নীতিমালা পরিত্যাগ করে আওয়ামী লীগ কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়েছিল।’
জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে দলটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আত্মগোপনে গেলেও দলটির সমর্থকরা এখনো প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।’
ইশরাক বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের এ দেশে কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই এবং দলটিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আগামী ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরার কথিত পরিকল্পনা মূলত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা, যা তিনি ‘রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ঘটনাকে কাপুরুষোচিত আচরণ আখ্যা দিয়ে অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভক্তি সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’
ইশরাক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্য অপরিহার্য।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।’
কিরণ অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায় এড়াতে পারেন না। ওই সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড তার অনুমোদনেই সংঘটিত হয়েছে।
‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’- এই প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদ বিতর্কে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) চ্যাম্পিয়ন হয়।
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোরশেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, মাইদুর রহমান রুবেল ও জাকির হোসেন লিটন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
সূত্র : বাসস