সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টির প্রবণতা, সাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা বলবৎ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পৃথক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং ওডিশা উপকূল অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের বেগ বৃদ্ধি এবং সাগর উত্তাল থাকতে পারে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির বিস্তৃতি আরও বাড়বে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে শুধু সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন আরও কমতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও কমছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি সতর্ক সীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে তীরবর্তী কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গঙ্গা ও পদ্মার পানির স্তর বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক দিনে কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে এবং আগামী কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।