এসএসসি পরীক্ষায় ১২৫১ নম্বর পেয়ে জেলার সেরা গর্জনিয়ার নাবিহা
মুসলিম উদ্দিন, মোজাহিদুল ইসলাম:দেশজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। মেধা ও যোগ্যতার এই লড়াইয়ে সারাদেশের মতো কক্সবাজার জেলাতেও শিক্ষার্থীদের চমকপ্রদ সাফল্য নজর কেড়েছে। এবারের ফলাফলে সর্বমোট ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৫১ নম্বর পেয়ে কক্সবাজার জেলায় মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মেধাভী শিক্ষার্থী নাবিহা নূরীন।কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি জেলা জুড়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছে নাবিহা। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সে গণিতে পূর্ণ ১০০ এবং উচ্চতর গণিতে ৯৯ নম্বর অর্জন করেছে। এ ছাড়া ইংরেজিতে ১৯০, পদার্থবিজ্ঞানে ৯৮, রসায়নে ৯৭, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৯৭, জীববিজ্ঞানে ৯৪, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৪, বাংলায় ১৮৪ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) ৪৮ নম্বর পেয়ে প্রায় প্রতিটি বিষয়েই সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখেছে নাবিহা।নাবিহা রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মুনির উদ্দিন আহমদ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা শাহিদা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। শিক্ষক দম্পতির এই সন্তানের অভাবনীয় ফলাফলে পরিবার, বিদ্যালয় ও শিক্ষক মহলে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নাবিহার বাবা-মা জানান, এসএসসির এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উচ্চমাধ্যমিক ও পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করবে। প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসে জেলায় প্রথম হওয়ার ঘটনা গর্জনিয়া ইউনিয়নসহ পুরো রামু উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।এদিকে শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সর্বমোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বরাবরের মতো বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে। তবে শহরের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কক্সবাজারের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই দুর্দান্ত ফল শিক্ষার গুণগত মানের ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।