Cox News

মুক্তিপণ আদায়ে শিশুকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই, মোনাজাতেও অংশ নেন


প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মুক্তিপণ আদায়ে শিশুকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই, মোনাজাতেও অংশ নেন

মুক্তিপণের জন্য ফুফাতো ভাইয়ের ৭ বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই ফয়সাল। মেয়েকে যেন দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায় সেজন্য মাজারে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন বাবা। সেই দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাতেও অংশ নেন অপহরণকারী ফয়সাল। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করেছে। তার বাড়ি থেকেই লুকানো ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত শিশু তাসকিনকে। সেই সঙ্গে অপহরণকারী চক্রের আরও দুই সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

তারা হচ্ছেন- মো. রাকিব ও জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।

মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। নিজের স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলেন ফয়সাল। তবে শেষপর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করতে পারলেন না তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার ও ফয়সালসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

এদিকে সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা।

শিশুটির মা বলেন, ভেবেছিলাম আমার মেয়েকে জীবিত ফিরে পাব না। এজন্য অনেক মানত করেছি। আল্লাহ আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। উদ্ধারের পর বাবার বুকে ছুটে আসা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বাবার উদ্বিগ্ন প্রশ্ন ‘মা তোমাকে কী ওরা মেরেছে।’ মেয়ের ‘না’ জবাবে বাবা ফেলেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

পুলিশ জানায়, অপহরণের শিকার শিশু তাসকিন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২০ জুলাই সকালে সে বিদ্যালয়ে যায়। ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজিচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে জানায়, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই কথা বিশ্বাস করে শিশুটি সিএনজিতে ওঠে। এরপর তাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযান শুরু করে। অভিযানে মো. ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।  তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল নিজেকে শিশুটির বাবার মামাতো ভাই বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিষয় : চট্টগ্রাম

Cox News

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


মুক্তিপণ আদায়ে শিশুকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই, মোনাজাতেও অংশ নেন

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

মুক্তিপণের জন্য ফুফাতো ভাইয়ের ৭ বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই ফয়সাল। মেয়েকে যেন দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায় সেজন্য মাজারে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন বাবা। সেই দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাতেও অংশ নেন অপহরণকারী ফয়সাল। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করেছে। তার বাড়ি থেকেই লুকানো ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত শিশু তাসকিনকে। সেই সঙ্গে অপহরণকারী চক্রের আরও দুই সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

তারা হচ্ছেন- মো. রাকিব ও জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।

মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। নিজের স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলেন ফয়সাল। তবে শেষপর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করতে পারলেন না তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার ও ফয়সালসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

এদিকে সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা।

শিশুটির মা বলেন, ভেবেছিলাম আমার মেয়েকে জীবিত ফিরে পাব না। এজন্য অনেক মানত করেছি। আল্লাহ আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। উদ্ধারের পর বাবার বুকে ছুটে আসা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বাবার উদ্বিগ্ন প্রশ্ন ‘মা তোমাকে কী ওরা মেরেছে।’ মেয়ের ‘না’ জবাবে বাবা ফেলেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

পুলিশ জানায়, অপহরণের শিকার শিশু তাসকিন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২০ জুলাই সকালে সে বিদ্যালয়ে যায়। ছুটির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজিচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে জানায়, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই কথা বিশ্বাস করে শিশুটি সিএনজিতে ওঠে। এরপর তাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযান শুরু করে। অভিযানে মো. ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।  তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল নিজেকে শিশুটির বাবার মামাতো ভাই বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের অর্থ ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মুক্তিপণ আদায়ে শিশুকে অপহরণ করেন মামাতো ভাই, মোনাজাতেও অংশ নেন
0:00 0:00
1.0x