অবশেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হলো সাহিত্যিক ও চিন্তক আহমদ ছফার দেহাবশেষ। আজ বুধবার দুপুরে দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক কবি সাখাওয়াত টিপু আজকের পত্রিকা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে দেহাবশেষ স্থানান্তর সম্পন্ন হয়।
এর আগে ফেসবুকে আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার একটি ছবি ও ভিডিও আপলোড করে লেখেন, ‘লেখক আহমদ ছফার কবর খননের কাজ চলছে। নিজেকে দিয়ে শুরু করলাম।’
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক কবি সাখাওয়াত টিপু ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ ছফা ভাইয়ের কবর বুদ্ধিজীবী কবরের স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মৃত্যুর পর পর তিনি যে সম্মান পাননি, আজ পঁচিশ বছর পর তাঁকে সেই বিরল সম্মান দেওয়া হচ্ছে। লেখক হিসেবে তিনি আরও অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকবেন। আল্লাহ যাকে সম্মান দেন, তার সম্মান কেউ কেড়ে নিতে পারেন না। অথচ জীবদ্দশায় কত মানুষ তাঁকে অসম্মান করেছেন।’
তিনি বলেন, শিল্পী সাহিত্যিকদের সম্মান দেওয়া হয় না। আহমদ ছফাকে অবশেষে এত দিন পরে সম্মান দেওয়া হলো।
এর আগে রাজনৈতিক কারণ এই প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীকে সাধারণ কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মৃত্যুর দুই যুগ পরে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী এবং প্রথাবিরোধী লেখক ও বুদ্ধিজীবীর কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তখন লেখকের পরিবারের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪ তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আহমদ ছফার পরিবারের পক্ষে তাঁর ভাইয়ের ছেলে নূরুল আনোয়ার লেখকের কবর স্থানান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে আহমদ ছফার অসামান্য অবদান থাকলেও তাঁকে এ পর্যন্ত যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই তাঁকে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে বর্তমানের সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করা প্রয়োজন।
আহমদ ছফার কবর স্থানান্তর বিষয়ে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাঁর কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন করপোরেশনের সদস্যরা।
এ প্রসঙ্গে নুরুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, আহমদ ছফার মহাপ্রয়াণের পর আমাদের প্রাণের দাবি ছিল তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ওই কবরটি তো নির্ধারিত সময়ের পর ভেঙে দেওয়া হবে। এ জন্য আমরা চেয়েছি তাঁর কবরটি যেন বুদ্ধিজীবীদের যে অংশটি আছে, সেখানে স্থানান্তর করা হয়। আহমদ ছফার কবরটি যেন স্থায়ীভাবে রাখা হয়, এ জন্যই আবেদনটি করা হয়।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে আবেদনটি উত্থাপন করার পরে অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত আহমদ ছফার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের আবেদনের মূল লক্ষ্য।