মুসলিম উদ্দিন:
উখিয়ার অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোর্টবাজারের সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্মিত ডিভাইডারটি রাতের আঁধারে কেটে "গিলে খাওয়া'র" এক গভীর চক্রান্তের তথ্য সামনে এসেছে। তবে এক পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক উপস্থিতি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে আটকে গেছে সেই অপচেষ্টা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত কয়েকদিন আগে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফিরছিল পুলিশের একটি দল। কোর্টবাজার স্টেশনে পৌঁছালে রাস্তার মাঝখানে প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছে। তখন দেখা যায় ড্রিল মেশিন দিয়ে সরকারি ডিভাইডার কাটার দৃশ্য চোখে পড়ে।
গাড়িতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি উপস্থিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলেও, পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গাড়ি থামিয়ে কাটাকাটির কাজ বন্ধ করে দেন। কার নির্দেশে এ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা পরে ওই রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় তথ্যানুসারে, সরকারি এই অবকাঠামোটি এক দিনে নয়, বরং বেশ কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা করে কাটার পাঁয়তারা চলছে। ডিভাইডারের একটি নির্দিষ্ট অংশে ড্রিল মেশিনের সাহায্যে মার্ক বা চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে সুযোগ বুঝে যেকোনো দিন মাঝরাতে পুরো অংশটি গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।
জনমনে ক্ষোভ, প্রশ্ন দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "জনসাধারণের পথচলা সহজ করা এবং যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত এই সরকারি অবকাঠামো ইচ্ছেমতো ভাঙার চক্রান্তের পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা দরকার। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা জনস্বার্থের অবকাঠামো রক্ষায় স্থানীয় দায়িত্বশীল, বাজার কমিটি বা প্রশাসনের এমন নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।"
কোর্টবাজারের সড়ক ব্যবস্থাপনা পঙ্গু করে দিয়ে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল করতেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।