নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা জয়নালকে ঘিরে উঠে এসেছে ভয়ংকর এক ইয়াবা সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য। কয়েক বছর আগেও যিনি ছিলেন সাধারণ জেলে, সেই জয়নাল এখন ইয়াবা কারবারের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সাম্রাজ্য।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তার জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। ইতোমধ্যে তিনি নির্মাণ করেছেন দুইতলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন একটি গরুর খামার—যা তার আয়ের উৎস নিয়ে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জয়নাল অত্যাধুনিক কৌশলে তার মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছেন। নিজ বাড়িতে স্থাপন করেছেন একাধিক সিসি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘরে বসেই মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা আনার রুট, পরিবহনকারী এবং লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়া মনিটর করেন।
আরও জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক একটি চক্রের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ৮ নম্বর ক্যাম্পের আক্কাসিম এবং ১০ নম্বর ক্যাম্পের জাফর ও সোহেল নামের ব্যক্তিদের মাধ্যমে ইয়াবা বহন ও সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সীমান্ত পেরিয়ে আনা-নেওয়া হয় এবং অস্ত্রধারীদের পাহারায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জয়নাল সচরাচর বাড়ির বাইরে খুব কমই বের হন। তিনি ঘরে বসেই সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ইয়াবা আদান-প্রদান পরিচালনা করেন। এতে করে সরাসরি সম্পৃক্ততা আড়াল করে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তার বাড়ি সীমান্ত লাগোয়ো হওয়ায় আরকান আর্মির সাথে সম্পর্ক থাকায় সেই প্রতিনিয়ত মিয়ানমারে যাওয়া আসা করে বলে জানাযায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, “তিনি নিজে সরাসরি মাঠপর্যায়ে না থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়ি থেকেই পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করায় তার অপকর্মগুলো আড়ালে থেকে যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, জয়নাল এলাকার মানুষের সঙ্গে খুব একটা মিশেন না এবং তার চলাফেরাও সীমিত। ফলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও সন্দেহ আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে জয়নালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিসি ক্যামেরা জব্দসহ তাকে আটক করা হলে ইয়াবা পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানসহ পুরো সিন্ডিকেটের ভয়ংকর চিত্র উন্মোচিত হতে পারে।
ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।