মিলেছে মোটে ৪ দিনের ছুটি। আর তাতেই কি না দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে ছুটে এসেছে সমুদ্রের কাছে। হয়তো সমুদ্র তাদের ডাকছিল! দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে তাই এখন পর্যটকের ঢল।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সৈকতের লাবণি, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর ও ইনানী পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর এক পরিবেশ দেখা যায়। সমুদ্রস্নান, সূর্যাস্ত উপভোগ, ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইক ও নানা বিনোদন কার্যক্রমে মেতে উঠেছেন দর্শনার্থীরা।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, হিমছড়ি, ইনানী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটন যান, ফটোগ্রাফার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ব্যবসা ভালো হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতে কথা হয় ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ রিপনের সঙ্গে। গতকাল বুধবার তিনি পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। রিপন বলেন, ‘বর্ষায় সৈকতে ঘুরতে ভালোই লাগে। হোটেল ভাড়াও কম। সব মিলিয়ে এবারের ভ্রমণ ভালো কাটছে।’
রাজশাহীর বাঘা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চাকরিজীবী আওলাদ হোসেন। শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজারে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আসা এই পর্যটক বলেন, কক্সবাজারে পাহাড়-সমুদ্র একসঙ্গে দেখার সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাবণি, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে ৫০ হাজারের বেশি পর্যটক সমুদ্রদর্শনে নেমেছেন। অনেকেই মেরিন ড্রাইভ ধরে টেকনাফ পর্যন্ত ঘুরতে ভিড় করছেন।
সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করছে সি সেফ লাইফ গার্ড। লাবণি পয়েন্টে দায়িত্বরত লাইফ গার্ড সদস্য মোহাম্মদ শুক্কুর আজ বিকেলে জানান, এ সময়ে সাগর বেশ উত্তাল। এর মধ্যে সৈকতের কয়েকটি স্থানে রিপ কারেন্ট (গুপ্ত খাল) তৈরি হয়েছে। ফলে পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে গোসলে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার শহর ও মেরিন ড্রাইভে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজে অন্তত এক লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ৮০ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকের এই চাপ আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সে অনুযায়ী পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও ছুটির কারণে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে পর্যটন খাত আরও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তারা আশা করছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতে টুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) অহিদুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফির নেতৃত্বে দুপুরে কলাতলী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দুটি টুরিস্ট জিপকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং কাগজপত্র সঠিক না থাকায় তিনটি জিপ জব্দ করা হয়।