কুমিল্লায় প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা এক ব্যক্তির মরদেহ কাফনের কাপড়সহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। গত শুক্রবার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথের পেটুয়া ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকায় স্বামীর কবরের পাশে স্ত্রীর কবর খননের সময় ঘটনাটি সামনে আসে। শনিবার এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়ারা জানান, উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী প্রায় ২৪ বছর আগে মারা গেলে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত শুক্রবার তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মারা গেলে ছেলে কামাল হোসেন বাবার কবরের পাশে মায়ের দাফনের জন্য কবর খননের ব্যবস্থা করেন। এ সময় রমজান আলীর মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
কবর খননকারী খোকন জানান, কবর খুঁড়তে গিয়ে দেখেন কাফনের কাপড়সহ মরদেহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে বিষয়টি দেখান তিনি। রমজান আলীর ছেলে কামাল হোসেনের ভাষ্য, কবর খননের সময় তাঁর বাবার মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত দেখতে পান। ভয়ে আর কাপড় খুলে দেখা হয়নি। পরে বাবার কবরের পাশে মায়ের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
উলুপাড়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনে এমন ঘটনার সাক্ষী এই প্রথম হলাম। আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। জেনেছি তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন।’
মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিংয়াংকা চক্রবর্তী সমকালকে জানান, এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। দীর্ঘ সময় মরদেহ কীভাবে অক্ষত থাকল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে এত বছর মরদেহ অক্ষত থাকার এমন ঘটনা আগে কখনও শোনা যায়নি।