চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মক্তবে পড়তে যাওয়া ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আসার পথে ওই শিক্ষক হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ওই গ্রামের একটি মক্তবে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, শিশুটি প্রতিদিনের মতো মিজানুর রহমানের কাছে মক্তবে পড়তে যায়। ঘটনার দিন মক্তব ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে অন্য শিশুদের পাঠিয়ে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার মাকে গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনার পর শিশুটির পরিবার স্থানীয় কড়ৈতলী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান, ইউপি সদস্য জিতু এবং ইউপি চেয়ারম্যান রাজনের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তাঁরা বিষয়টি থানায় জানানোর পরামর্শ দিয়ে পরিবারটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষকের শ্যালক ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী হায়দার উজ্জ্বলের ঘরে একটি সালিসি বৈঠক বসে। সেখানে শিশুটির দরিদ্র বাবাকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তের শ্যালক আলী হায়দার উজ্জ্বল ও ইউপি সদস্য শেখ হোসাইন আহমেদ রাজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ইউপি সদস্য সেলিম জিতু দাবি করেন, ‘শিশুটির পরিবার আমাদের বিষয়টি জানানোর পর অপরাধের ধরন বিবেচনা করে আমরা তাদের অবিলম্বে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এরপরের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’
এদিকে শিশু নির্যাতনের এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং নেটিজেনরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
তবে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আসার পথে ওই শিক্ষক হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।