অপহৃত এক শিশুকে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে জকরিয়া (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্প-১৮-এর কে-০৯ ব্লকের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক জকরিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮-এর কে-০১ ব্লকের বাসিন্দা। পরে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিশুকে হাত বেঁধে ছুরি প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। গোপন তথ্য, স্থানীয় হেড-মাঝি ও সাব-মাঝিদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অপহরণে জড়িত জকরিয়াকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এপিবিএন সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে এক শিশুর হাত বাঁধা অবস্থায় তার সামনে ছুরি ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। আতঙ্কিত শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রাণভিক্ষা চাইছিল। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বালুখালী ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা শিশুটি রহমত আলী (৬), সে উখিয়া ক্যাম্প-১১-এর ই-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনাইদের ছেলে। তাকে গত ২২ জুলাই অপহরণ করা হয়। সর্বশেষ গত রোববার অপহরণকারীদের দাবি করা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অপহরণকারীদের প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হতে সাহস পায়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উখিয়া থানা পুলিশের তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জকরিয়ার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এপিবিএনের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।