ধর্ষণ মামলায় বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি ও মাগুরার সাবেক এসপি (বর্তমানে সংযুক্ত কর্মকর্তা) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন।
ধর্ষণের অভিযোগটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ঢাকার স্পেশাল মেট্রোপলিটন মাহমুদুল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। আসামি বাদীকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাঁর অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা করেন।
আরও বলা হয়েছে, পরে একই বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে বাদীর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাদীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন।
২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বাদী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং একই সময় পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
গত ১৪ জুলাই ওই ঘটনায় সত্য পেয়েছেন মর্মে আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক।