নগরীর আমবাগান এলাকার একটি বস্তি থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। অস্ত্র দুটি ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অস্ত্রগুলো লুট করা হয়েছিল।
রোববার রাতে পিস্তল দুটি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ২৪ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ডগুলিসহ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারশেনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া দুটি পিস্তল ও ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১২টি মাদক, তিনটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং ৯টি অন্যান্য মামলাসহ মোট ২৪টি মামলার রয়েছে।
মাদক উদ্ধার অভিযানকালে সন্ত্রাসী আলমগীররের অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তার অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা শটগানের ২৭ রাউন্ড গুলি করে। এ সময় হামলাকারীদের গুলি ও ইটপাটকেলের আঘাতে ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। এসআই মোবিনুল ইসলাম গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানার অবৈধ অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী অস্ত্রসহ গ্রেফতার
সংবাদ সম্মেলনের আরও জানানো হয়, বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের অভিযানে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ ও সাইদুল ইসলামকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। রোববার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন কোয়াইশ রোডের ওয়াজেদিয়া খেলার মাঠের সামনে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আসিফের পকেট থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি এবং সাইদুলের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, চট্টগ্রামের আলোচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অন্যতম সহযোগী এবং অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে।
আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারী কর্মচারীদের আঘাত ও হত্যার চেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা এবং আসামি সাইদুল ইসলাম প্রকাশ আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুইটি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডেভিড ইমনসহ বিভিন্ন তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।