বিরোধী জোটের হুমকি ও সরকার পতনের প্রচেষ্টাকে ‘ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলের ফাজলামো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ আমরা ঠিকই বাস্তবায়ন করছি। জুলাই সনদ একটি জাতীয় সনদ-যুগপৎ আন্দোলনের ফসল।’
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা ও হুইপ বলছেন, “হুঁশিয়ারি দিয়ে আন্দোলন করে নাকি সরকার নামিয়ে ফেলবেন”-ইত্যাদি। জুলাই সনদ আমরা ঠিকই বাস্তবায়ন করছি। জুলাই সনদ একটি জাতীয় সনদ-যুগপৎ আন্দোলনের ফসল। এতে সকল রাজনৈতিক শক্তি স্বাক্ষর করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাটপারির গণভোট-যেখানে মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পুরো অর্থই জানে না! গণভোটের প্রতিটি পয়েন্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ অর্থ বোঝা বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদসহ অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।’
ইশরাক হোসেন বিরোধী জোটের সমালোচনা করে বলেন, ‘আন্দোলন করবেন-ঠিক আছে। সরকার পতনের হুমকি দেবেন-সেটাও ঠিক আছে। বিরোধী দলের মঞ্চে উঠে মাঠ কাঁপাবেন-তাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু সাতক্ষীরায় গিয়ে খাট কাঁপানো দল এবং তাদের নব্য চেলাপেলা-যাদের ওই খাটই শিক্ষা দিচ্ছে-তাদের হুমকি-ধমকিতে আমার মনে হয়, ছোট শিশুরাও হেসে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না পেলেও দিনে দিনে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, এই তৎপরতার পেছনে শতভাগ তাদের পৃষ্ঠপোষক শক্তি ও প্রভুদের ইন্ধন রয়েছে। সেই প্রভুরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায় না।’
প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘আসল কাহিনি বের করতে হলে খুঁজে দেখতে হবে-এদের অর্থায়ন করছে কারা, কারা অর্থ জোগাচ্ছে এবং কারা ইন্ধন, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিচ্ছে। তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, ভারতের দালাল, পাকিস্তানের দালাল অথবা উভয় দেশের দালালেরা এখন যৌথভাবে লেজ বেঁধে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিএনপি মহাসাগরের মতো বিশাল আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করা একটি দল। এসব কর্মকাণ্ড আমাদের কেবল একটু বিনোদনই দিচ্ছে, এর বেশি কিছু নয়।’
তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি বাপের ব্যাটা হয়ে থাকেন, এখনই রাস্তায় নামার ডাক দিন। দেখা যাক, জনগণ কার পক্ষে আছে। আমরা লড়াই, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ক্রমেই প্রমাণিত হচ্ছে, এই জোট আরেকটি আওয়ামী লীগের মতোই দেশের শত্রু। তারা দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের রায় মানে না; বরং নিজেদের ইচ্ছামতো আইন সাজিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে থানা-পুলিশ লুটের তন্ত্র কায়েম করতে চায়। আমরাও বসে আছি-আহ, ভাতিজা!’