টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য দায়ী করে এক নারী সহকর্মীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে রবিউল মিয়া (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লৌহজং নদীর পাড় থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল।
নিহত নয়না রাজবংশী (৫৪) মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের বাসিন্দা এবং মরণ রাজবংশীর স্ত্রী।
গ্রেপ্তার রবিউল মিয়া (২৫) পেশায় নির্মাণশ্রমিক। তিনি পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে রবিউল মিয়া ও নয়না রাজবংশীর মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে। এ সম্পর্ক নিয়ে রবিউলের স্ত্রীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে গত ঈদুল আজহার আগে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী আর ফিরে না আসার জন্য নয়না রাজবংশীকেই দায়ী মনে করে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন রবিউল। ২১ জুলাই রাতে তিনি নয়নাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বাড়ির পাশের লৌহজং নদীর পাড়ের ঝোপে মরদেহ ফেলে রাখেন।
নয়না নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মেয়ে টুম্পা রাজবংশী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে লৌহজং নদীর পাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসআই রাশেদ ফজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।