নাটোরে কিশোর চালককে হত্যা করে চার্জার ভ্যান ছিনতাইকারী চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার অন্য একটি ধারায় তাদের আরও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় অপর একজনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ার কথা বলা হয়েছে। উভয় দণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলেও বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার বিকালে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ রায় দেন।
রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের আব্দুল হামেদের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম, একই গ্রামের খোদা বক্স মণ্ডলের ছেলে মাজেদুল মণ্ডল ও মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রানা এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের মোস্তফা মণ্ডলের ছেলে লিটন ওরফে মিঠন মণ্ডল।
মামলায় অপর আসামি রাজশাহী জেলার বাঘা এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. শওকত আলী মণ্ডলকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে মো. রানা শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের দিন থেকে রায় কার্যকর হবে এবং আগে থেকে গ্রেফতারকৃতরা যতদিন হাজতবাস করেছেন সেই সময়গুলো দণ্ড থেকে মওকুফ পাবেন। অর্থদণ্ড প্রাপ্তিসাপেক্ষে মোট টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা আদালতের মামলার ব্যয়ভার রেখে বাকিটা বাদীকে প্রদান করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের জিয়া সর্দারের কিশোর ছেলে মো. প্রান্ত (১৬) সড়কে চার্জার ভ্যানগাড়ি চালাতেন। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তিন ব্যক্তি আড়ানী বাজার থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা বাজারে আসার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া করে। সেই রাতে আর প্রান্ত বাড়ি ফিরে আসেনি তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের একটি ফসলি জমিতে তার হাত-পা বাঁধা ও মুখের মধ্যে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা লাশ পাওয়া যায়।
নিহত প্রান্তের পিতা জিয়া সর্দার সেদিনই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ১৭ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুধবার এই রায় দেন বিচারক।
নাটোর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।