বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৪র্থ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। তিনি বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২০১৩ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
বর্তমানে তিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে ২০০২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
কুমিল্লার কোর্টবাড়ী এলাকায় জন্ম নেওয়া ড. শরীফুল ইসলাম ছাত্রজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৮৮ সালে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, কুমিল্লা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১২তম এবং ১৯৯০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ২য় স্থান অর্জন করেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন, সবুজ নির্মাণসামগ্রী এবং নদীর বালু ও স্থানীয় বর্জ্য উপকরণ ব্যবহার করে আর্থ-ব্লক প্রযুক্তি। তাঁর উদ্ভাবিত ভেটিভার-ভিত্তিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম ১৯০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ, বই এবং নকশা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। তিনি The Vetiver Network International (TVNI), USA কর্তৃক Standard Specification for Slope Stabilization Using Vetiver Grass" গ্রন্থের রচয়িতা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "Vetiver-based Bioengineering for Slope Stabilization গ্রন্থের প্রণেতা। এছাড়া দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন বিষয়ে নকশা নির্দেশিকা ও একটি বইয়ের সহ-লেখক, যা পরবর্তীতে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস প্রদত্ত ড. এম. ইন্নাস আলী স্মৃতি স্বর্ণপদক (২০২৩), ড. রশিদ স্বর্ণপদক (১৯৯৯) এবং শরফুদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৯) উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া টিভিএনআই অ্যাওয়ার্ড (২০১৫ ও ২০২৩), কিং অফ থাইল্যান্ড ভেটিভার অ্যাওয়ার্ড (২০১৫), ফোরাম-৮৬ রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০২০) এবং গ্লোবাল ভেটিভার চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড (২০২৩) অর্জন করেন।
এ পর্যন্ত তিনি দেশি-বিদেশি ৯০টিরও বেশি এমএস ও পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।