মুসলিম উদ্দিন:
গাড়ি চলেছে, সেবা পৌঁছেছে, এনআরসির কার্যক্রমও থেমে থাকেনি! তবে থেমে গেছে গাড়ির মালিক ও চালকদের পাওনা টাকা। কক্সবাজারের উখিয়ায় নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) বিভিন্ন কার্যক্রমে গাড়ি সরবরাহের পর ১০–১২ জন গাড়ির মালিক ও চালকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা বকেয়া পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর এনআরসির সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর ‘জামান কার সেন্টার’-এর দিকে। চার মাস ধরে পাওনা না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা এখন টাকা আদায়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এনআরসির কক্সবাজার ও উখিয়া কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে জামান কার সেন্টারের ভেন্ডরের মাধ্যমে তারা গাড়ি সরবরাহ করে আসছিলেন। নিয়মিত গাড়ি চালিয়ে এনআরসির কার্যক্রমে সেবা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে গাড়িভাড়া ও চালকদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার পরিমাণও বাড়তে থাকে।
পাওনা আদায়ে একাধিকবার যোগাযোগ ও তাগাদা দিয়েও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গাড়িভাড়া ও বেতন না পেয়ে কয়েক দফা আরআরসি কার্যালয়ের সামনে গাড়ির বহর নিয়ে অবস্থান করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী চালক এনআরসির উখিয়া কার্যালয়ের লজিস্টিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় চার মাস ধরে জামান কার সেন্টারের মাধ্যমে এনআরসির কক্সবাজার ও উখিয়া অফিসে গাড়ি সরবরাহ করে আসছেন। শুরুতে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে গাড়িভাড়া ও চালকদের বেতন পরিশোধে অনিয়ম দেখা দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসের গাড়িভাড়া এবং চালকদের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ ভেন্ডর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়। বৈঠকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে চালকদের বেতন এবং ২৫ তারিখের মধ্যে গাড়ির বকেয়া ভাড়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
চালকদের দাবি, একজন-দুজন নয় জামান কার সেন্টারের মাধ্যমে কাজ করা ১০–১২ জন গাড়ির মালিক ও চালকের পাওনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে দাবি তাদের।
পাওনা না পাওয়ায় গাড়ির কিস্তি, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকদের বেতন পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন গাড়ির মালিকরা। অন্যদিকে বেতন না পেয়ে সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা।
একাধিক ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, এনআরসির কার্যক্রমে নিয়মিত গাড়ি দিয়ে সেবা নেওয়া হলে সেই গাড়ির ভাড়া ও চালকদের শ্রমের টাকা আটকে থাকবে কেন? আর ভেন্ডরের কাছে এত বিপুল অঙ্কের বকেয়া তৈরি হলেও এর দায় নেবে কে?
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের বকেয়া গাড়িভাড়া ও চালকদের বেতন পরিশোধের পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জামান কার সেন্টারের সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, এনআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের জন্য বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এনআরসির কাজে গাড়ি চলল, ভেন্ডর বিল পেল বা পাওয়ার কথা থাকল, অথচ গাড়ির মালিক-চালক কেন মাসের পর মাস পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকবেন? প্রায় অর্ধকোটি টাকার এই বকেয়ার দায় ও জবাবদিহি শেষ পর্যন্ত কার! এনআরসি, নাকি ভেন্ডরের?