রত্নাপালং, রুহুল্লার ডেবা ও চাকবৈঠাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ঘটনার অভিযোগ; টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের
ওমর ফারুক:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া, মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশসহ রত্নাপালং ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় পথচারী ও যানবাহনে চলাচলকারী মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বিভিন্ন সড়কে ঘোরাফেরা করে সুযোগ বুঝে পথচারী কিংবা যানবাহনে থাকা ব্যক্তিদের গতিরোধ করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কারা জড়িত বা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রত্নাপালংয়ে ব্যবসায়ীর ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগ
সম্প্রতি রত্নাপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এমন কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। রত্নাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের তিনমুখী সড়ক, রুহুল্লার ডেবা এলাকা এবং গয়ালমারামুখী চাকবৈঠায় পৃথক ব্যক্তিরা একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
এর মধ্যে রত্নাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন সড়কে ছিনতাইচেষ্টার একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ইমার হোসনে বাবু নামের এক ব্যবসায়ী।
তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, রাত ১টা ৫২ মিনিটের দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরার পর একটি অটোরিকশাযোগে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। রত্নাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। পরে তারা ধারালো ছুরি বের করে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পকেটে থাকা জিনিসপত্র বের করে দিতে বলে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে ওই ব্যবসায়ী আরও দাবি করেন, তিনি একটি ছোট মোবাইল ফোন দেওয়ার পর আরও একটি মোবাইল ফোনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ও অটোরিকশাচালক প্রতিরোধ করলে দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। একজন রাস্তার পাশে চাষ করা জমির দিকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি রাতের বেলায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ওই ব্যবসায়ী।
রুহুল্লার ডেবাতেও একই ধরনের অভিযোগ
ওই ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে রুহুল্লার ডেবা এলাকায় এক টমটমচালকও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
চাকবৈঠায় কৃষকের মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ
এ ছাড়া গয়ালমারামুখী চাকবৈঠা এলাকায় রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে এক কৃষককে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি পথরোধ করে ধারালো ছুরি দেখিয়ে তাঁর দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনারও কোনো লিখিত অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিসিটিভি থাকলেও শনাক্তে জটিলতা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গয়ালমারা এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও কথিত ছিনতাইকারীদের চেহারা কিংবা মোটরসাইকেলের নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কার্যকর নজরদারি ও উন্নতমানের ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ছিনতাইয়ের এমন অভিযোগ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কিংবা যানবাহনে চলাচলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে অনেকে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগের নম্বর, গুরুত্বপূর্ণ নথি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্য হারানোর ঝুঁকিও থাকে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি
এ অবস্থায় উখিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাতের টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে-এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কার্যকর সিসিটিভি স্থাপন এবং বিদ্যমান ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়রা বলেন, তারা কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করতে চান না কিংবা প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চান না। তাদের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক এবং যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উখিয়া থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
দিন কিংবা রাত-উখিয়ার মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।