মুসলিম উদ্দিন:
কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের জায়গায় প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। এতে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন সদর বিটের ফলিয়াপাড়া ঘোনারপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই একর বনভূমি দখল করে ওই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনের প্রায় অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট অংশে ইটের গাঁথুনির কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পরবর্তী কাজের জন্য ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও মজুদ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০/১২ দিন ধরে জাফর আলম ওরফে রইশ্যা বর জাফর'র ছেলে মিজান ওই স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তবে নির্মাণকাজ চললেও বিষয়টি বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন বিট কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর বনবিটের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, মূল্যবান গাছ নিধন এবং ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ড চলছে। এতে ধীরে ধীরে বনভূমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বনভূমি দখলে সহায়তা করছেন। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
পরিচয় গোপন রেখে নির্মাণকারী মিজানের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, "বনের জায়গায় কোনো স্থাপনা বা কাজ করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন হেডম্যানের মাধ্যমে বন বিভাগকে টাকা-পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে কাজ করতে হয়।" এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিককেও ম্যানেজ করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার জন্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সদর বিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, "এখানে বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়টি আমি জানতাম না। তবে কোনো পাবলিক কাজ করার আগে কয়েকজন ব্যক্তি হেডম্যান পরিচয়ে বন বিভাগের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেন। এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বন বিভাগের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নেই।"
তিনি আরও বলেন, কথিত হেডম্যান ইব্রাহীম ও কথিত ভিলেজার ছৈয়দ আকবর ওরফে কালাসোনা বন বিভাগের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেন এমন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এসেছে। "এখন যেহেতু বিষয়টি জানতে পেরেছি, নির্মাণাধীন বাড়িটি ভেঙে দিয়ে মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান বিট কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহিনুর ইসলামকে অবহিত করা হলে তিনিও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করলেই হবে না; সংরক্ষিত বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে বনভূমি দখল বন্ধ করা কঠিন হবে।