শাকুর মাহমুদ চৌধুরী:
কথা বলতে পারেন না, স্বামীও নেই। আপনজন বলতে আপাতত কেউ নেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, অসহায় ও বাকপ্রতিবন্ধী আয়েশা (৫০)-এর জীবন যেন এক নীরব বোবাকান্নার গল্প। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম গয়ালমারায় একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরেই মানবেতর জীবন কাটছে তার। টানা বর্ষণে তার ছোট্ট ভাঙা ঘরটিও এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ঘরে।থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়। ঘরের ভেতরে থাকা সামান্য জিনিসপত্রও ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
অথচ নিজের কষ্টের কথা কাউকে মুখ ফুটে বলার সামর্থ্যও নেই আয়েশার।নীরব এই নারীর ভাষা এখন শুধু দু’চোখের অশ্রু। ক্ষুধা, অসুস্থতা, নিঃসঙ্গতা আর অনিশ্চয়তা- সবকিছু নিয়েই একা লড়ছেন তিনি। ঘরে খাবার না থাকায় গত দুদিন ধরে প্রতিবেশীদের দয়ায় কোনোভাবে খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আয়েশার দুর্দশার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার কষ্টের কথা বিভিন্ন মানবিক ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হলেও এখনো তেমন কোনো স্থায়ী সহায়তা মেলেনি। তবে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আয়েশার জন্য সবচেয়ে জরুরি একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনের ন্যূনতম ব্যবস্থা। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই এই অসহায় নারীর জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
এ অবস্থায় উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আয়েশার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীহারা, বাকপ্রতিবন্ধী আয়েশার আপনজন বলতে আপাতত কেউ নেই। তাই তার এই অসহায়ত্বের সময়ে সমাজের মানুষই হতে পারে তার আপনজন, মানুষের সহানুভূতিই হতে পারে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন।
একটি নিরাপদ ঘর, কয়েক দিনের খাবার কিংবা সামান্য আর্থিক সহায়তা- হয়তো এসবই আয়েশার কাছে নতুন জীবনের আশার আলো। আসুন, নীরবে কাঁদতে থাকা এই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়াই।