“প্রাণের ভাষা বাংলা,মাতৃ ভাষা বাংলা”লেখকঃ হাকিমুন নেছা(বাপ্পী)শিক্ষানবীশ আইনজীবী, কক্সবাজার জজকোর্ট।

0
214

সিএনবি,নিউজ ডেস্কঃ

১৯৫২ সালে এত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলার জন্য। অথচ শুধু ফেব্রুয়ারী মাস এলেই শুধু আমরা ভাষার মাস বলে বলে আত্নহারা হয়ে যায় কিন্তু সারা বছরই মাতৃভাষা  বাংলার জন্য আমাদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা, আন্তরিকতা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। 

এই ভাষার জন্য আমরা হারিয়েছি কত মায়ের বুকের ধন,বাবার আদরের কলিজার টুকরো সন্তান,বোনের আদরের  ভালবাসার ভাইটিকে। কিন্তু সেই ভাষা শহীদদের জন্য আমরা বছরের শুধু ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারীকেই বরাদ্দ করে রেখেছি আমরা। 
আমাদের এই ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে, স্বীকৃতি পেতে ৫২ র রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু আপনারা জেনে দেখবেন পৃথিবীর অন্য কোন দেশে ভাষার জন্য এমন রক্তক্ষয়ী যোদ্ধ হয় নি।  আমি মনে করি এখনো সঠিক ভাবে সেই যুদ্ধের মূল্যায়ন করতে পারছি না।

আমাদের মাতৃভাষার মূল্য কেন এই দেশে নেই তার কারণ হিসেবে আমি ব্যাখা করছি। যে ভাষায় কথা বলার জন্য এত যুদ্ধ বিগ্রহ, এত প্রাণহানি,এত আন্দোলন করে অবশেষে বাংলা ভাষা অর্জন করেছি অথচ এই দেশে বেকার যুবকেরা ভাল কোন চাকরীর ইন্টারভিউতে বাংলাকে তুচ্ছ করে ইংরেজীকে বেশি প্রধান্য দেয়া হয়। শুদ্ধ বাংলা ভাষা বলার চাইতে আধা বাংলা আর আধা ইংলিশ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ইন্টারভিউতে বিচারকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। ইংরেজীকে যদি এতই বেশি মূল্যায়ন করা হয় তাহলে বাংলা ভাষার জন্য এত রক্তক্ষয়ী যোদ্ধ বিগ্রহ করার কি দরকার ছিল। 

তাহলে এত যুদ্ধ করে মায়ের বুক খালি করে, অনেক মেধাবী,জ্ঞানী, ছাত্র তরুণ,রাজনীতিবিদ,অনেক তুখোড় জ্ঞানী ব্যক্তিদের জীবন দেয়ার উদ্দ্যেশ্য কি ইংরেজির জন্য? যে এত উৎসাহ তৎপরতা এমন কি ইংরেজিতে যেন ভালো কথা বলতে পারে, একটা ভাল চাকরী হয় তার জন্য?

এই ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য টাকা খরচ করে কোচিং করে রাত দিন এক করে আয়ত্ত করা হয়। কিন্তু আমরা বাঙ্গালী হয়েও এখনো অনেকে শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষাটা বলতে পারিনা। কেউ কি কখনো শুদ্ধ মাতৃভাষা শিখার জন্য টাকা খরচ করে কোচিং করেছি। ইংরেজির প্রতি এতটা আমরা তৎপর আর বেশি মূল্যায়ন দিয়ে থাকি তাহলে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার জন্য কি করার নেই।  সারা বিশ্বের কাছে এই বাংলা ভাষাকে পরিচিত ও প্রয়োজনীয় করতে আমরা কি কখনো কোন উদ্যেগ গ্রহণ করেছি বা আগামী একশ বছরেও আদৌ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে?

আমাদের উচিত বিদেশি যারা আমাদের বাংলাদেশে কাজ করছে বা কাজ করতে আসবে তাদেরকে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি আন্তরিক করে তুলে আমাদের বাংলা ভাষায় পারদর্শী করে আমাদের ভাষাকে সম্মানিত করা। বাংলা ভাষা ছাড়া কোন অফিস আদালতে অন্য কোন ভাষা তেমন প্রধান্য পাবে না। অন্য দেশের ভাষাও চর্চা করা দরকার তবে বাংলাকে প্রথম স্থানে রেখে করা উচিৎ। 

কি দরকার ছিল যদি ইংরেজিকে অফিসে, চাকরীতে,স্কুলে,ইন্টারভিউতে এতটা প্রাধান্য দিয়ে আমাদের বাংলা ভাষাকে তুচ্ছ করে দেয়া। চাকরীর জন্য বায়োডাটা আজকাল বাংলায় কেউ লিখেও না ইংরেজী ছাড়া। এমন ভাবে দেশকে পরিচালনা করা হচ্ছে যেন বাংলাদেশে আমরা বসবাস করছি না অনর্গল ইংরেজি ভাষায় কথা বলা এমন কোন দেশে বসবাস করছি। 

সচরাচর দেখা যায় সব অভিভাবকরা ইংরেজি স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করায় কারণ ইংরেজিতে একটু পারদর্শী হতে পারলেই কোন রকম একটা চাকরীর সন্ধান তাদের সন্তানেরা পেয়ে যাবে।  আমাদের উচিত আমাদের সন্তানদের আমাদের মাতৃভাষা বাংলা শিখিয়ে তাদের আন্তরিক করে তুলা বাংলা ভাষার প্রতি,তাদের জানিয়ে দেয়া উচিৎ  ৫২ র ভাষা আন্দোলনে ভাষার জন্য  যে সংগ্রাম যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল।এসব যদি আমরা আমাদের প্রজন্মদের শিক্ষা দিতে না পারি কি করে তারা মাতৃভাষার প্রতি আন্তরিক হবে। কি করে তারা বাংলা ভাষাকে বুকে ধারণ করে বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।

যারা মাতৃভাষা বাংলার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেশের ভাষাকে রক্ষা করল তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হলেও মাতৃভাষা বাংলা কে সম্মান, শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি দেয়া আমাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

অনন্তপক্ষে ভাষার মাসে হলেও ইংরেজি ভাষা পরিহার করুন।আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে সম্মানের সহিত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আর স্মরণ করে আমাদের দেশের জন্য,ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়ে দেশের মানরক্ষা করল,মান রক্ষা করল আমাদের মায়ের মুখের বাংলা ভাষার বুলি তাদের জন্য অন্তরের অন্তরস্থল থেকে সকল শহীদদের আত্নার শান্তির জন্য দোয়া করি।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here