মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোমে গড়ে উঠেছে দেশীয় তৈরি বাংলা মদের কারখানা 

0
221

সিএনবি,নিউজ ডেস্কঃ 

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত কুতুবজোম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় গোলাপ শাহ এর নেতৃত্বে  গড়ে উঠেছে দেশিয়  বাংলা মদ তৈরির কারখানা।


কুতুবজোম চরপাড়া পশ্চিমে প্রভাবশালী নেতার চিংড়ী ঘেরের কাকড়া ব্যবসায়ীর বাসার পাশে প্রতি রাতে তৈরি হচ্ছে দেশীয় বাংলা মদ।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায় – বাংলা মদ তৈরির কারখানার উৎপাদন কুতুবজোমের কিছু দাগী সন্ত্রাসী ও কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায়  বংশ পরম্পরায় ৩০-৪০ বছর ধরে চলে আসছে। যদিও এদের কয়েকজন এখন জেলহাজতে। তবুও থেমে নেই তাদের মদ তৈরির কাজ। নিয়মিত চলে আসছে তাদের চোলাই মদের ব্যবসা।


মদ তৈরি বন্ধ করার জন্য স্থানীয়এলাকাবাসী প্রাণপণ চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারেনি।
সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে কিছুদিন গা ডাকা দেয়ার পর এখন পুরোদমে চলছে মদের উৎপাদন।


প্রতিদিন সূর্য উদয়ের আগেই দেশি মদ বিশেষ পলিথিন ব্যাগে চটের বস্তায় করে টমটম অটোরিকশার মাধ্যমে সড়ক পথে চলে যায় মহেশখালীর বিভিন্ন মাদক স্পটে। মদ তৈরি করে ব্যবসায়ীরা গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।


কুতুবজোম চরপাড়ায় বাংলামদ উৎপাদন কেন্দ্রে পৌঁছতে মদ উৎপাদনকারীদের রয়েছে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেস্টনি। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে মদ উৎপাদনকারীরা ব্যবহার করছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। ফলে অনেক সময় সাংবাদিক পুলিশ তাদের হাতে নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। শুরুর প্রথমে নিজ নিজ বাড়িতেই দেশি মদ তৈরি হতো কিন্ত মাঝেমধ্যে মহেশখালী থানা পুলিশের বিভিন্ন অভিযান ও ধরপাকড়ের জন্য নিরাপদ দূরত্বে চিংড়ী ঘেরে গড়ে তুলেছে দেশি মদ তৈরির কারখানা।
সন্ধ্যা নামতেই চিংড়ী ঘেরের মাঝখানে কালো পলিথিনে ঘেরা কাকড়া চাষের বাসায় ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত চলে বিরতিহীন উৎপাদন। 
দৈনিক উৎপাদন হয় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার লিটার দেশীয় বাংলা মদ। পাইকারী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয় প্রতি লিটার ৬-৭ শত টাকা। 


মানবপাচারকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামীদের বিচরণ নির্দ্বিধায় সু-সজ্জিত অস্ত্রের ঝংকারে।প্রায় ১০ জন স্থানীয় যুবক রাত চুক্তিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। দেশি মদ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় পচা আখের গুড় আর নেশাদলের মতো রাসায়নিক উপাদানসহ ঘুমের ওষুধ। জ্বাল দেয়ার জন্য কাঠের লাকড়ি। 
আশপাশের অনেক ভদ্র পরিবার মানসম্মানের ভয়ে দূরে অন্যত্র পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছে। মদ্যপাড়ায় বসবাস করলে বিয়ের উপযুক্ত ছেলেমেয়ে ভালো পরিবারে বিয়ে দিতে পারে না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবজোম চরপাড়া এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান- আমরা সামাজিকভাবে অনেক চেষ্টা করেছি মদ উৎপাদন বন্ধ করতে কিন্ত তাদের স্থানীয় কিছু নেতার প্রভাব থাকায় থাকায় আমরা পারি না। নীরবে চোখ-কান বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই আমাদের।
মহেশখালী থানার (ওসি) তদন্ত বাবুল আজাদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা খুবই কঠোর অবস্থানে থেকে নির্মূলে অভিযান চালাচ্ছি। মদ তৈরির এলাকাতে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here