মহেশখালী মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারী কাজ নিয়ে নয়-ছয় সুবিধা বঞ্চিত স্থানীয়রা

0
116


সিএনবি, ডেস্ক নিউজঃ

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে দেশের বৃহত্তর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের চারজন বাঙ্গালী কর্মকর্তা উৎকোচ ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরির আড়ালে নিজস্ব লোকজনের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে নিজেরাই ঠিকাদারী কাজ করছেন। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দিচ্ছেন বহিরাগত লোকজনদের। এছাড়া কমিশনের ভিত্তিতে কাজ দিচ্ছেন স্থানিয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।


এতে শ্রমিক ও অন্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ও উক্ত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থানিয়দের ছাটাই করে বহিরাগতদের নিয়োগ দেয়ায় কর্মহারা এলাকাবাসি ফুঁসে উঠছে দিন দিন। এ অভিযোগ পেন্টাওশান কোম্পানীর এইচ আর আনোয়ারসহ বাঙ্গালী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উক্ত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১২ টি আর্ন্তজাতিক ঠিকাদারী প্রতিষ্টান বিভিন্ন অবকাঠামো কাজ করে যাচ্ছে।

এসব ঠিকাদার থেকে কাজ নিয়ে দেশীয় প্রায় ৫০ টি এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঘুরিপুরের ঠিকানায় আশিক এন্টার প্রাইজের নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পে বিভিন্ন ক্যাটাগরীর শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্যান্টাওশানের এডমিন (এইচ আর) আনোয়ার নামে এক কর্মকর্তা চাকুরী করার পাশা-পাশি আশিক এন্টারপ্রাইজের অধীনে কোক ম্যান,নরমাল কাটিং শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি বিদেশী কুরিয়ানদের ভূল তথ্য দিয়ে স্থানিয় লোকজনকে প্রকল্প থেকে বের করে দিয়ে নতুন করে লোক নিয়োগ দিচ্ছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানিয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সরকারের এ বহুমুখী পরিকল্পনায় মাতারবাড়ী সহ মহেশখালীবাসী সাড়া দিলে ও প্রকল্পে কর্মরত কথিত কয়েকজন বাঙ্গালী কর্মকর্তার কারণে কর্মহারা মাতারবাড়ী ও ধলঘাটাবাসী দিন দিন ফুঁসে উঠছে আর্ন্তজাতিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনের এডমি (এইচ আর) আনোয়ার, শাহারিয়া ও শাহ নেওয়াজের বিরুদ্ধে। তবে কোলপাওয়ারে কর্মরর্ত এক কর্মকর্তা আলফাজ ও উল্লেখিতদের সাথে সিন্ডিকেট করে চুষে খাচ্ছে প্রকল্পের সব ধরনের অবৈধ সুবিধা এমনও অভিযোগ করেছে কর্মহারা স্থানিয় বাসিন্দারা।

অত্র এলাকায় ২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৃথকভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬ শত ১৪ একর লবণ ও চিংড়ি ভূমি। এতে বিভিন্ন পেশার ১০ হাজার লোক বিভিন্ন ভাবে কর্মহারা হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকুরী ও শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলে ও বর্তমানে স্থানীয়দের কোন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। এ অভিযোগ মাতারবাড়ী বাসীর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাতারবাড়ীর কয়েকজন সাব-ঠিকাদার জানান, জাপানী সংস্থা জাইক্যার অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রকল্পে দেশী-বিদেশী আর্ন্তজাতিক মানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। আবার এ সব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেয়া কাজ খন্ড খন্ড করে স্থানীয় বিভিন্ন ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় সাব-ঠিকাদাররা অবকাঠামো নির্মাণের ওয়ার্ক অর্ডার পেলে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে এসব কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। কিন্তু আর্ন্তজাতিক মানের বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাঙালী কর্মকর্তারা চাকুরী করার সুবাদে টেন্ডারের কাজ তাদের নিজস্ব লোকজনের মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজের নামে বাগিয়ে নিচ্ছে।

শুধু তা নয়, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে চাকুরী দিচ্ছে বহিরাগতদের। ফলে স্থানীয়রা চাকুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় শ্রমিকরা ও কাজ পাচ্ছে না প্রকল্পে। বেশীর ভাগই অভিযোগ উঠেছে পেন্টাশনের এইচ আর আনোয়ার, শাহারিয়া ও শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে।


মাতারবাড়ীর কয়েকজন সাব-ঠিকাদার জানিয়েছেন লাইন এন্ড সেভ কোম্পানী লিঃ থেকে সম্প্রতি চাকুরী চ্যুত করা ৪০ জন লোকের পরিবর্তে প্রতি জন থেকে ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোস নিয়ে লোক নিয়োগ দিয়েছেন আনোয়ারের নেতৃত্তাধীন ঐ সিন্ডিকেট।

ঐ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে ১২নং ক্যান্টিনের ক্যাটারী ম্যান নিয়োগের ব্যাপারে। এমনকি ঐ সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় এন্টার প্রাইজের মালিকরা কাজ না পাওয়া স্থানীয় শ্রমিকরা ও বেকার হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদে মাধ্যমে শিরোনাম হওয়ায় মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই আর্ন্তরজাতিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পস্কো ও পেন্টাওশান কোম্পানীতে চাকুরীরত ৫ বাংলাদেশী কর্মকর্তার বিরুদ্ধের ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত থাকার প্রমাণিত হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁদেরকে উক্ত প্রকল্প থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।


আশিক এন্টার প্রাইজের আশিক বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেন্টাশনের এইচ আর আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অহরহ। তবে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
কোল পাওয়ার জেনারেশন এর ডাইরেক্টর মোঃ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, যদি আনোয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত থাকলে গণমাধ্যমে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করুন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here