কাজ চললেও জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি

0
57

সিএনবি ডেস্ক: ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরে যুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর বাইরেও রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেলসংযোগ স্থাপন করতে সরকারের নেওয়া দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটির কাজ শতভাগ পূর্ণ হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটারের এই রেললাইন পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সারা দেশের সঙ্গেও সরাসরি সংযুক্ত করবে।

জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ। করোনা মহামারিতে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। এ থেকে বাদ যায়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্প বহুল প্রত্যাশিত দোহাজারী-কক্সবাজার ঘুনদুম নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটিও। তবে সব কিছু ছাপিয়ে করোনার কারণে মাসখানেক বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য কিছু জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। বাকি আছে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু পুল সরিয়ে নেওয়ার কাজ। খুটিনাটি এসব কাজ বাকি থাকলেও সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। কাগজে কলমে ২০১০ সালে শুরু হয়েছে এ প্রকল্পের কাজ। শুরুর দিকের নানা জটিলতা কাটিয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে বর্তমানে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ৫৭ শতাংশ কাজ এখনও বাকি। গত ১০ বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ৩১ মে পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯০৯ কোটি টাকা। চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) এবং বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই প্রকল্পের কাজ করছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জানা গেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে মোট ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার ভায়া ঘুমধুম ১২৯ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে দুই লটে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩৬ ভাগ, আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ৯৩ ভাগ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনও কিছু জমি অধিগ্রহণ কাজ বাকি আছে। এছাড়াও প্রকল্প এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের পুল সরিয়ে নেওয়ার কাজ বাকি আছে। এগুলো অবিলম্বেই সরাতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শও করা হয়েছে। এই দুটি কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, করোনার কারণে আমরা মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে পর্যন্ত মাত্র মাসখানেক কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। কারণ, এসময় কোনও শ্রমিক প্রকল্প এলাকায় ছিল না। করোনার ভয়ে যে যেভাবে পেরেছে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে পালিয়েছে। পরবর্তীতে রোজার ঈদের পর থেকে আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি জানান, পুরো প্রকল্প জুড়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি আছে যা করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের পুল রয়েছে, সেগুলো সরাতে হবে। আর কোনও জটিলতা নাই। কাজেই আশা করছি নির্ধারিত ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরে যুক্ত হবে।

পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেল লাইনে স্টেশন থাকবে ৯টি, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে স্টেশনগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া, কক্সবাজারের চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগড়, রামু, কক্কবাজার সদর, উখিয়া এবং ঘুমধুম।

রাজধানী ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে বাংলাদেশের শেষ প্রান্ত কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২২ সালের জুলাই মাসে চালু করা সম্ভব হবে নতুন এই রেল রুট। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবির অর্থায়নে নির্মিত এই রেলপথে থাকছে দেশের ইতিহাসে প্রথম নান্দনিক রেল স্টেশন। প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। এই পুরো রেলপথে মোট ২৫টি সেতু থাকবে। এর মধ্যে মাতামুহুরী নদী, মাতামুহুরী শাখানদী, শঙ্খ এবং বাঁকখালী নদীর উপর নির্মিত হবে চারটি বড় সেতু।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম-দোহাজারী ভায়া ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসছে চার হাজার ৯১৯ কোটি সাত লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ থেকে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এবং সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর একটি। এই প্রকল্পের আওতায় ১২০ কিলেঅমিটার রেলপথ বাংলাদেশকে যুক্ত করবে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরে, একই সঙ্গে এই রেললাইন পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সারা দেশের সঙ্গেও সরাসরি সংযুক্ত করবে। ফলে গুরুত্ব দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। -বাংলা ট্রিবিউন।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here