করোনা তুমি বড় শিক্ষক”হাকিমুন নেছা বাপ্পি”

0
151

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ 

করোনা ভাইরাস আমাদের সামনে একটা আয়না ধরেছে। সেই আয়নায় আমরা আমাদের মধ্যে সব চাইতে খারাপ গুন সম্পন্ন মানুষগুলো অথবা আমাদের মধ্যে ভালোগুন সম্পন্ন মানুষগুলোকে দেখতে পাচ্ছি।

আমরা আরো দেখতে পাচ্ছি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সাথেই আমরা কোন না কোনভাবে কানেক্টেড! তাই আমাদের থেকে দূরে ইতালির এক নাগরিকের মৃত্যুতেও আমরা যেনো একই ব্যথায় ব্যাথিত হচ্ছি।

আমরা এই প্রথম আমাদের অপারগতাকে সম্মিলিতভাবে অনুভব করছি। আদতে আসলেই আমরা একে অন্যের সাথে কত সম্পৃক্ত।

 ভাইরাসের সাথে মানব জন্মের প্রক্রিয়ার খুব মিল খুঁজে পাই আমি। আমরা যেমন আমাদের চারপাশের সব কিছু ধ্বংস করে আমাদের জীবনের ব্যালান্স খুঁজতে থাকি ভাইরাসও ঠিক তাই করছে, সেটা করতে গিয়ে সে পেয়ে গেছে মানুষের শরীর, তার সর্বোত্তম হোস্ট, এটা ব্যালান্স ছাড়া কিছুই না। এটা প্রকৃতির তরফ থেকে মানুষের জন্য শাস্তি অবশ্যই না, প্রকৃতি ঈশ্বরের মত সত্তা না। সে জাজমেন্টাল না, সে আমাদের শাস্তি দিচ্ছে না, সে শুধু ব্যালান্স খুঁজছে এই যা।

এক সময় ডাইনোসোরেরাও এই পৃথিবীতে লক্ষ বছর চোষে বেরিয়েছে! হয়ত ভেবেছে তারাও আজন্ম টিকে যাবে কিন্ত বিলুপ্ত হয়ে গেছে ভলক্যানিক এশ অথবা মিটেউর এফেক্ট এর কারণে।

আজকের মনুষ্য জাতি যেহুতু আকাশ, সমুদ্র,প্রাণী জগৎকে রীতিমত চোষে বেড়াচ্ছিলো, হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছিলো প্রায় সব কিছুই, যেই প্রকৃতি মানুষকে তার জীবনের চেয়ে বড় বানিয়েছে, সেই প্রকৃতিই মানুষকে হাত পা বেঁধে ঘরে বসিয়ে রেখেছে।

মানব জাতি যখন সর্ব ক্ষেত্রে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিচ্ছে ঠিক সেই সময়ে এক অদৃশ্য শত্রু আমাদের সমস্ত চলমান প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিয়েছে। ফ্যাক্টরি বন্ধ, এরোপ্লেন দাঁড়ানো, আর উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের বোর্ডারে টাঙিয়ে দিলো উন্নত দেশের কোন ট্যুরিস্ট এলাউ না।

এই প্রথমই আমরা জানলাম বাংলাদেশের একজন কৃষকের সুস্থতা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বা ব্রিটেনের রানীর সুস্থতার জন্যই জরুরি। ধর্মের বিনোয়েগের চেয়ে বিজ্ঞানের ইনভেস্টমেন্ট বেশি জরুরি।

আমরা আরো দেখলাম যে মানুষগুলো এতো দিন কুসংস্কারে বিশ্বাস করেছেন তারাও অপেক্ষায় আছে কবে বিজ্ঞান ভ্যাকসিন বানাবে, কবে তারা মুক্তি পাবে! যেই মানুষগুলো বিবর্তন নিয়ে মোকারী করেছে তারাও জেনে গেছে ভ্যাকসিন বানাতে গেলে মিউটেশন জানতে হবে , জানতে হবে মানব শরীরের বিবর্তন কিভাবে কাজ করে।

এই প্রথম মানুষ ধর্মীয় গুরুর কাছ থেকে কোন মিরাক্যাল আশা করছে না কিন্ত তাকিয়ে আছে বিজ্ঞানী বা গবেষকদের দিকে।

 গত কয়েক মাস আগেও যে মানুষগুলো আমাদের কাছে হিরো ছিলো তারা আজকে অদৃশ্য, গুরুত্বহীন। করোনা আমাদের আসল হিরোদের আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে: ডাক্তার, নার্স, সাস্থ্যকর্মী, ক্লিনার্স, বিজ্ঞানী, গবেষক,খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো।

আমরা আরো দেখলাম আমেরিকার সব চাইতে বড় ক্যাথের্ড্রাল হয়ে গেছে হাসপাতাল আর ইরানের মাজার হয়ে গেছে মাস্ক বানানোর ফ্যাক্টরি!! এইভাবে চলতে থাকলে মানুষ একদিন চাইবে তাদের মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা হয়ে যাক মাস্ক, ভ্যান্টিলেটর, স্যানিটাইজার বানানোর কারখানা। মানুষ জানবে, বেঁচে থাকার চেয়ে বড় কোন ইবাদত পৃথিবীতে নেই।

প্রয়োজনের চেয়ে বড় কোন ঈশ্বর এই জগতে নেই। 
তবে সবচাইতে বেশি যে উপকার এই করোনা করলো সেটা হলো আমাদের বুঝিয়ে দিলো ধর্ম, বর্ন, গোত্র,জাতি ভেদে যদি সবাই এক হয়ে এর মোকাবেলা না করি , সে আমাদের অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে।আমরা এক হলেই এই যুদ্ধে জিতে যাবো। 
আর হ্যাঁ, ডাইনোসার একেবারে বিলুপ্ত হয়নি। কিছু ডাইনোসোর প্রকৃতির মধ্যে থেকেই পরিবর্তিত হয়ে আজকের পাখির রূপ নিয়েছে।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here