টেকনাফের স্কুল ছাত্রী অপহৃত,উদ্ধার হইনি দুই সপ্তাহে ও

0
150

সাঈদী আজম সাগর,সিএনবিঃ

টেকনাফে দুই সপ্তাহেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি অপহৃত কিশোরীকে। এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল টেকনাফ মামলা দায়ের করা হলেও মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্য আসামীরা এখনও অধরা। নাবালিকা কন্যাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত স্কুল ছাত্রী সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী। পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও জন্মনিবন্ধন অনুসারে তার বয়স মাত্র ১৫ বৎসরের সামান্য বেশি।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া এলাকার মৃত হোসেন মাস্টারের পুত্র সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত অপহরণকারী ওই স্কুল ছাত্রীকে টানা-হেঁচড়া করে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় অপহৃত স্কুল ছাত্রীর চিৎকারে বাড়ীর লোকজন এগিয়ে আসলে দ্রুতগতিতে উক্ত সিএনজি সহকারে পালিয়ে যায় সাইফুল ইসলাম সহ তার দল।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল টেকনাফ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুসারে অপহরণকারী সাইফুল ইসলাম সহ চিহ্নিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন অপহৃত স্কুল ছাত্রীর মা। যার নং-৩৬/২০২০। মামলায় ওই এলাকার বশির আহমদের পুত্র মোঃ আফসার উদ্দিন, কবির আহাম্মদের পুত্র আলী আহাম্মদ ও মোঃ হোছন, বশির আহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে আসামী করে এজাহার দায়ের করা হলেও এখনও অধরা রয়েছে আসামীরা।অপহৃত স্কুল ছাত্রীর মা (সংগত কারনে নাম গোপন রাখা হল) অভিযোগ করে বলেন, সাইফুল ইসলাম স্থানীয় ভূমিদস্যু ও শীর্ষ মানবপাচার দালাল। সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মামলার আসামীরা আমার মেয়েকে আমার বাড়ীর সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। সাইফুল ইসলামের যোগসাজসে বশির আহমদের বখাটে পুত্র আফসার উদ্দিন আমার মেয়েকে বার বার কু-প্রস্তাব দিত। আমার নাবালেক মেয়ে আফসারের কু-প্রস্তাবে রাজী না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আমার কন্যাকে অজ্ঞাত সিএনজি নিয়ে তুলে নিয়ে যায়।

মামলার বাদী আরও বলেন, মেয়ে অপহরণের সময় তিনি বাড়ীতে ছিলেন না। জরুরী প্রয়োজনে পাশের বাড়ীতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বাড়ীর সামনে শোর-চিৎকার শুনে দৌঁড়ে এসে দেখে একটি সিএনজিতে করে তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, ঘটনাটি রাস্তায় থাকা অনেকে দেখেছে। আমি অপহরণের ৬ দিনপর থানায় স্বশরীরে হাজির হয়ে নিয়মিত মামলা করি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করি।

পুলিশের বরাত দিয়ে অপহৃতার মা বলেন, সাইফুল ইসলাম সহ চিহৃিত অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে টেকনাফ থানা পুলিশ। এদিকে অপহরণকারীরা তার মেয়ে স্ব-ইচ্ছায় তাদের সাথে চলে গেছে বলে হুমকি এবং বিভিন্ন ভিডিও বার্তা পাঠাচ্ছে।

আইনজীবী মতামত দিয়েছেন, যেহেতু; ওই স্কুল ছাত্রী অপ্রাপ্ত বয়স্ক। সুতরাং স্কুল ছাত্রীকে স্বেচ্ছায় নিয়ে গেলেও এটা আইন পরিপন্থি। যেহেতু; অপহৃত স্কুল ছাত্রী এখনো নাবালিকা। এক্ষেত্রে নাবালিকা কন্যা প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বোধগম্য থাকে না। সেহেতু; তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে এবং আদালতের আইন অনুযায়ী নারী নির্যাতন ও শিশু দমন আইন অনুসারে বিচারকার্য্য করা হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, এ ধরনের একটা ঘটনার বিষয়ে জেনে স্থানীয় মেম্বারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল দেখার জন্য। কিন্তু অপহরণকারীদের পক্ষের কেউ না আসায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে জেনেছি অপহৃত স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গাজী মাঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলাটি আমার তদন্তাধীন আছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আসামীদের ধরতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আশা করি এই  বিষয়টি কক্সবাজের পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন  মহোদয় ও আইনের সকল সংগঠন অবগত আছেন। সুতরাং সকল দিক বিবেচনা করে আসামীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে দেশের আইনের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

article bottom

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here