রোহিঙ্গাদের উশৃঙ্খলতায় স্থানীয়দের আর্তনাদ

0
77

মোজাম্মেল হক,কক্সবাজার সদরঃ    রোহিঙ্গাদের কারণে বিপাকে স্থানীয়রা। ব্যবসা বাণিজ্য সহ সব ক্ষেত্রেই রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। রোহিঙ্গাদের হাতে নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে স্থানীয়রা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন বলেছে উশৃংঙ্খল রোহিঙ্গাদের রুখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

স্থানীয় বাবুল নামক একজন ব্যবসায়ী জানান- সে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার একজন সবচেয়ে বড় চালের ব্যবসায়ী ছিলেন কিন্তু রোহিঙ্গারা আসার পর চালের ব্যবসা ছেঁড়ে কাঁচা তরকারী বিক্রি করছেন তিনি। যে চালের বস্তা তিনি বিক্রি করতেন দেড় হতে দুই হাজার সে চাল রোহিঙ্গারা ত্রাণ সংগ্রহ করার পর অতিরিক্ত চাল গুলো বিক্রি করছে মাত্র পাঁচশ টাকায়। বহু দিন ধরে চালের ব্যবসায় ক্ষতি পোষণ করতে করতে অবশেষে নিজ এলাকায় কাঁচা তরকারী বিক্রি করে চালাচ্ছে সংসার এবং করছেন জীবিকা নির্বাহ। বাবুলের মত আরো অনেকে হাজার হাজার মেট্রিকটন চাল মিলে বা গোডাউনে রেখে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চালের ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় আরও একজন চালের ব্যবসায়ী জানান- তাঁর কিনা পাঁচ লক্ষ তিরিশ হাাজার টাকার ধান এখনো মিলে পড়ে রয়েছে কিনার মত কোন মানুষই পাচ্ছেন না তিনি। রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে একটি ধান ও বিক্রি করতে সক্ষম হয় নি সে।       

মুদি দোকানের সওদাগরদের পরিস্থিতি আরো করুণ পাচ্ছে না কোন ক্রেতা। যে পণ্য স্থানীয় দোকানদারগণ বিক্রি করে ১০০ টাকা সে একই পণ্য রোহিঙ্গারা বিক্রি করছে ৫০ টাকা বা তারও কম। রোহিঙ্গারা ত্রাণ সংগ্রহ করার পর অতিরিক্ত ব্যবহারের পণ্য খুবই অল্প দামে বিক্রি করার ফলে স্থানীয় মুদি দোকানের অবস্থা খুবই করুণ। রোহিঙ্গারা আসার পর স্থানীয়দের যে সমস্ত ক্ষতি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিরাপত্তার। 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানান- আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য যেমন বিপর্যয়ে ঠিক তেমনি আমাদের প্রকৃতিক পরিবেশ ও বিপর্যয়ে। যেমনঃ উখিয়া টেকনাফে প্রচুর পরিমাণের পাহাড়ি বন জঙ্গল ছিল। সেই বন জঙ্গল রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে কেঁটে উজাড় করা হয়েছে বা হচ্ছে। ফলে কিছু দিন পর উখিয়া টেকনাফে আর পাহাড় ও বন থাকবে না মরুভূমিতে পরিণত হবে। আর এখানে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয় সব এই রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে অবাদে চলাফেরা করছে। চুরি, ডাকাতি,খুন যেন তাদের নিত্য দিনের খেলা। যখন ইচ্ছে যাকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে গুম করে ফেলছে। তাদের ভয়ে স্থানীয়রাও মুখ খুলে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না কারণ কিছু বললেই দল বেঁধে তাদের উপর আক্রমন করতে আসে রোহিঙ্গারা। যতই দিন গড়াচ্ছে ততই স্থানীয়দের সাথে তাদের সংঘাত সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে এবং স্থানীয়রা তাদের কাছে জিম্মী হয়ে পড়ছে। এত সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না তারা নিজেদের মধ্যে চলছে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনী। তাদের হাত হতে রেহাই পাচ্ছে না স্থানীয়রাও। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ হলো নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতেও প্রতিনিয়ত জাতীয়তা সনদপত্র হাতে নিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে। অন্যথায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে পুলিশ অথবা বর্ডার গার্ডদের কাছে হয়রানীর শিকার। 

সাবেক উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন- আমাদের সার্বভৌমত্ব আজ একটি প্রশ্নেবিদ্ধতার সম্মুখীন হয়ে দাড়িয়েছে। উখিয়াবাসীর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যারা প্রথম শ্রেণীর উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন তারাও আজ এই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। কি হবে ভবিষ্যতে এই উখিয়াবাসীর জীবনযাত্রার। বড়ই বিপাকে আজ উখিয়া টেকনাফের স্থানীয় জনগণ। 

এই বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান- উগ্র রোহিঙ্গাদের বিরোদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা অপরাধ করছে তাদের বিরোদ্ধ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের কোন অপরাধের বিন্দুমাত্র আলামত পাওয়া গেলে সাথে সাথে কোন ধরণের সময় নষ্ট না করেই অপারাধ সংগঠণ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here