কক্সবাজার সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান মুজিব স্যারের শ্রদ্ধেয় মাতার ১ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

0
189
মায়ের কুলে শুয়ে আছেন মুজিব স্যার

মোজাম্মেল হক,সিএনবি,কক্সবাজারঃ-কক্সবাজার সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব মুজিবুল হক স্যারের শ্রদ্ধেয় মাতা’র ১ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। গত ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং রাত সাড়ে আট টায় নিজ বাস ভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উনার সকল সন্তান সন্ততিদের মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চিরতরে চলে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন শ্রদ্ধেয় স্যারে মাতা কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের Intensive Care Unite(ICU) তে চিকিৎসা করে আসছিলেন। চিকিৎসার উন্নতি না হলে   স্যারের বাড়িতেই (আই সি ইউ) সরঞ্জাম কিনে তার মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বিধাতার শৃঙ্খল ভাঙ্গবার ক্ষমতা নেই কারো। চলে গিয়েছেন আদি পিতা আদম(আঃ) ও মা হাওয়া। সবাইকে হতে হবে সেই পথের পথিক কেউ আগে বা কেউ পরে এই টুকু রইলো ব্যবধান।  মুজিবুল হক স্যার হযরত শাহ আলী মডেল হাইস্কুল থেকে ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সালে বাংলা বিভাগ হতে বিএ অনার্স ও ২০০০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

তিনি ২০০৬ সালে ২ এপ্রিল ২৬ তম বিসিএস পরিক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৩ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে প্রথমে  সহ-কারী বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। এরপর স্যারের পদোন্নতি হয়ে বর্তমানে তিনি বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আজ স্যারের মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্য স্যারের সাথে কথা বললে তিনি কক্স নিউজ বিডি (সিএনবি) কে কিছু অনুভূতি শেয়ার করে বলেন – মা ডাক ডেকে পরম আশ্রয়ের স্নেহ ছোঁয়া আর পাবোনা, মায়ের বুকে মাথা রেখে সব যন্ত্রণা ভুলার আশ্রয়টা আর নেই…  ভাবতেই বড়ো অসহায় অসহ্য মনে হচ্ছে পৃথিবী। হে আল্লাহ, তোমার পৃথিবীতে অনাথের জীবন যন্ত্রণা হাবিয়া দোজখের চেয়েও বেশি। তবুও পথের শেষ পর্যন্ত চলতে হবে… হে মওলায়ে করিম, তুমি পৃথিবীর সব মা- বাবাকে ক্ষমা করে দাও, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্যার সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন- আমরা কখনো স্যার কে একজন শিক্ষক ভাবিনি আমরা সব সময় স্যারকে আমাদের অভিবাবক ভেবেছি। কারণ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব স্কুল,কলেজ বা ইউনিভার্সিটির ক্লাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে কিন্তু আমাদের স্যার এই গন্ডি পেরিয়ে সব সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল দিকনির্দেশনা দেন এবং কলেজ ক্যাম্পাসে স্যারের ভূমিকা অপরিসীম। সুতরাং সব মিলিয়ে স্যার আমাদের একজন গর্বিত অভিবাবক। স্যারে মায়ের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাভিভূত। পরম করুণাময় আল্লাহপাকের কাছে প্রার্থনা জ্ঞাপন করি যেন আল্লাহ তায়ালা স্যারের মা’কে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান বানিয়ে রাখেন। আমিন      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here