মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

0
347

 মোজাম্মেল হক, সিএনবি কক্সবাজারঃ- 
এ সব কি হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
সময় থাকতে একটি সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।রোহিঙ্গারা যে সমাবেশ করেছে যার নেতৃত্বে হয়েছে সে কে এবং কার নির্দেশে এই সমাবেশ করলো।স্বাধীন বাংলাদেশে পরাধীন রোহিঙ্গারা কিভাবে এত বড় সমাবেশ করার সাহস পাই। আর কে এই মুহিবুল্লাহ যে কি না হঠাৎ রোহিঙ্গাদের নেতা বনে গেল। যে কয়দিন আগেও প্রিয়া সাহার সাথে আমেরিকা গিয়ে ট্রাম্পের সাথে দেখা করে এসেছে এবং বাংলাদের মুসলিমদের বিরোদ্ধে আপনার সরকারের বিরোদ্ধে নানান মিথ্যা কথার জাল বুনে এসেছে।সে কিভাবে এই রোহিঙ্গাদের কে নিয়ে এত বড় সমাবেশ করার অনুমতি পাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আমি ভাবি সে আমেরিকা গেল কিভাবে, পাসপোর্ট পেল কোথায়, তাকে ঐখানে পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে কারা,এইগুলা বের করাই এখন খুব জরুরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এতগুলা ডিজিটাল ব্যানার আসলো কোথা থেকে, কারা ছাপিয়ে দেয় এই ব্যানার।তাদের হাতে হাতে মোবাইল আসলো কোথা থেকে আমাদের দেশে তো বায়োমেট্রিক ছাড়া সিম পাওয়া যায় না তাহলে ঐ মোবাইলের সিম গুলো পেল কোথায় তারা প্রশ্ন জাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।আমেরিকা বিভিন্ন দেশে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করে বিভিন্ন পরিচয়ে তারা বিভিন্ন দেশে বসবাস করে।

আমার মনে হয় রোহিঙ্গাদের মাঝে বিদেশী যত এনজিও কর্মী আছে তার বেশির ভাগই এজেন্ট যারা তাদের সব সময় উস্কানি মূলক কথা বলে, অস্ত্র সহ সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। শুধু আমেরিকান বলে কথা না মোসাদ, আইএসআই সহ চীন ভারত থেকে শুরু করে সব দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টও এখানে ছদ্ধ বেশে বসবাস করছে যাদের উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হোক, তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তাদের দেশের চাহিদা অনুুযায়ী ফায়দা লুট করা।আমাদের ভূখণ্ডে তাদের শিকড় গাড়া।

এই ক্ষেত্রে এইসব এনজিও কর্মীদের পেছনে খুব ভাল ভাবেই নজর দেয়া উচিৎ। আর তাদের কার্যক্রম আরো সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিৎ। তারা যা সাহায্য করতে চাই তা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে জমা দিক। এদের সরাসরি রোহিঙ্গাদের কাছে যাওয়া সীমিত করা হোক।আর পুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দেওয়া হোক যেন কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে।যে সব কোম্পানীর সিম রোহিঙ্গাদের হাতে ঐ সব কোম্পানী গুলোকে জরিমানা করা হোক, লাইসেন্স বাতিলের মত শাস্তি প্রদান করা হোক। 

রোহিঙ্গাদের শরীর দিয়ে এখন যেন তৈল গড়িয়ে পড়ছে। ফ্রি পেয়ে,ফ্রি খেয়ে, বেশী আরাম পেয়ে এখন বাংলাদেশের বিরোদ্ধেই ষড়যন্ত্রের নীল নকসা তৈরি করছে।প্রত্যেকটা রোহিঙ্গা এক একটা যেন তাগড়া ষাড়ে পরিণত হয়েছে।এখন থেকে রোহিঙ্গাদের দিনে একবার খাবার দেওয়া হোক।

যেভাবে বাংলাদেশে এসেছে ঠিক সেভাবে তাদের বিদায় করার ব্যবস্থা করা হোক আর না হয় সোনার বাংলা ধ্বংস হতে বেশিদিন লাগবে না।অনেক মানবতার দৃষ্টান্ত দেখানো হয়েছে আর নই মানবতা।এই মানবতা দেখাতে গিয়ে বলি হয়েছেন দেশের অনেক নিরীহ স্থানীয় জনগণ।দয়া করে আর মানবতা দেখাবেন না।এদের জন্য যারা মায়া কান্না দেখাচ্ছে তাদেরকেও এই রোহিঙ্গাদের সাথে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।গত দুই বছরে আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গারা গড়ে নিয়েছে বাংলাদেশে তাদের মৌলিক অধিকার – খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান। প্রস্তুতি নিচ্ছে আরও অনেক দাবি পূরণের।সব দাবি পূরণ করে নিবে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের সকল প্রশাসন চেয়ে চেয়ে দেখবে কিছুই করার থাকবে না।সব কিছু ঘটে যাবে চোখের সামনে দেখেও না দেখার ভান করে থাকতে হবে।

কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফে যে সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। যেমন – পুলিশ , র‍্যাব ,বিজিবি, ডিজিএফআই,এনএসআই, সেনাবাহিনী সহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি আপনারা আর তাদের কে এভাবে ছাড় দিবেন না। একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যাতে তারা আর কোন ধরণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটাতে না পারে।তা না হলে একদিন আপনার ও দেশের নিরীহ জনগণকে তাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন না। 

★এবার আসুন দেখি স্থানীয়দের  কি কি কেঁড়ে নিয়েছে রোহিঙ্গারাঃ-কেঁড়ে নিয়েছে স্থানীয়দের চাষের জমিঃ
এক সাথে হাজার হাজার রোহিঙ্গা গোষ্ঠী উখিয়া টেকনাফে প্রবেশ করার সাথে সাথে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের চাষের জমি।সেই জমি গুলোতেই তারা চাষ করে কিন্তু জীবিকা নির্বাহ করতো এমন অনেক পরিবার আজ চাষ বাস বন্ধ করে নিঃস্ব হয়ে ঘরেই বসে আছে।এতে শুধু তাদের ক্ষতি হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না আমরাও সে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।কারণ সে জমি গুলোতে যে সব ধান বা অন্য কোন ফসল উৎপাদন হতো তা স্থানীয়দের বাজারের প্রভাব কমাতো কিন্তু এখন তারা ঐ জমি গুলোতে বসবাস করছে। 

 কেড়ে নিয়েছে স্থানীয়দের ব্যবসা করার অধিকারঃ-রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যে সকল স্থানীয়রা রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় জুড়ে ছোট খাট ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতো তা ও কেড়ে নিয়ে এখন রোহিঙ্গারা।আগের মত স্থানীয়রা স্বাধীনভাবে কোন ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে না।রোহিঙ্গারা দখল করে নিয়েছে সে সকল জায়গা গুলো।কোন প্রতিবাদ করা যায় না প্রতিবাদ করলে নাকি নানান ভাবে নির্যাতিত হতে হয়।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা প্রতি মুহুর্তে রোহিঙ্গাদের হুমকির মুখে দিন কাটাচ্ছে।       

কেঁড়ে নিয়েছে স্থানীয়দের স্বাধীনতাঃ-উখিয়া টেকনাফ যে সকল জায়গা জুড়ে রোহিঙ্গাদের বসবাস সে সব জায়গায় অবস্থানরত স্থানীয় লোকজন আর আগের মত তেমন স্বাধীন ভাবে মুখ খুলে কথা বলতে পারে না। নিরবে সহ্য করে যেতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের অত্যাচার। রোহিঙ্গাদের বিরোদ্ধে কেউ কোন কথা বললে তাকে রাতের আধারে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে খুন করা হচ্ছে।তার জলন্ত প্রমাণ হলো জাদিমুরার যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক। রোহিঙ্গাদের উশৃংখল কাজে বাঁধা দিতে গিয়ে তাকে নির্মম ভাবে খুন হতে হয়েছে।এভাবে চলতে থাকলে উখিয়া টেকনাফ বেশিদিন লাগবে না তাদের দখলে যেতে।    

কেড়ে নিয়েছে সামাজিক শৃঙ্খলাঃ-উখিয়া টেকনাফের সীমান্ত জুড়ে যে সব জায়গায় এই রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে সেখানে আর কোন শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই।প্রতিনিয়ত কোন না কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেই বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাচ্ছে নানান অমানবিক কর্মকান্ড যা থেকে স্থানীয়রাও বাঁচতে পারছে না।সামাজিক পরিবেশের কোন চিহ্ন নেই ঐ এলাকা গুলোতে। কোন প্রশাসনিক আইন তারা মানছে না প্রত্যেকে তারা এক একটি মারাত্নক অস্ত্র বাহিনী গঠন করেছে। যে বাহিনী গুলো রাত্রী হলে তাদের প্রত্যেক সদস্যের হাতে অস্ত্র সহ সারা ক্যাম্পে তাদের অপকর্ম করে বেড়ায়।এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে বেড়ায়।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here