বিদেশ নেওয়ার নামে দালালদের প্রতারণা বেড়েছে

0
86

সিএনবি, নিউজ ডেস্কঃ মহেশখালীতে কাজের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দালালচক্রের বড় ধরণের প্রতারণা শিকার হয়েছে কালারমার ছড়ার একটি পরিবার। এ নিয়ে ওই পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ দালালদেরকে বিদেশ পাঠানোর নামে গ্রহণ করা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য লিখিত রায় দিলেও দালালচক্র এ সবের কোনো তোয়াক্কা করছে না। এর প্রতিকার দাবি করে ভুক্তভোগীরা বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

সূত্রের লিখিত অভিযোগ থেকে জানাযায় -উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনুচখালী মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবুল কাশেম। তার পুত্র সেকাব উদ্দিনকে কাতারে পাঠানোর জন্য তাদের প্রতিবেশী মৃত আব্দুল গণী প্রকাশ আব্দুল নবীর পুত্র আব্দু শুক্কুর ও আব্দু শুক্কুরের পুত্র জকির উল্লাহ, ফয়জুল্লাহ, মাহামুদুল্লাহ ও মামুনের কাছে এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে মৌখিক চুক্তিতে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে। শর্ত ছিল মোঃ আবুল কাশেমের পুত্র সেকাব উদ্দিনকে কাতার নিয়ে গিয়ে বতাকা (কাজের পারমিট) প্রদান করবে এবং কাজ ধরিয়ে দিবে। তার ছেলেকে কাতারে নিয়ে যাওয়ার পর ভিসা নিয়ে কোনো প্রকার ত্রুটি হলে ভিসার সম্পূর্ণ টাকা এসব ভিসাদাতা ফেরত দিবে। পরে এমন চুক্তিকে নগদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণের পর মোঃ আবুল কাশেম পুত্র সেকাব উদ্দিনকে কাতার নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল কাতারে যাওয়ার পর সেকাব উদ্দিনকে কোন প্রকার বতেকা দেওয়া হয়নি এবং সুনির্দিষ্ট কোন কাজ ধরিয়ে দেওয়া হয়নি।

তদুপরি সেকাব উদ্দিনকে সেখানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন কাজ করালেও এসব কাজের কোনপ্রকার পাওনা পরিশোধ করেনাই। সে হিসেবে বতেকা বাবদ ১০ শত রেয়াল ও কাজের পাওনা বাবদ ৩৩ শত রেয়ালসহ মোট ৪৩ শত রেয়াল পাওনা থাকে সেকাব উদ্দিন। এ অবস্থায় সে দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সেকাব উদ্দিনকে পালিয়ে থাকতে হয়। এক পর্যায়ে সে দেশের পুলিশ বকেতা ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সেকাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে নিয়ে যায়। তার এ জেলে যাওয়ার পেছনে তাকে সে দেশে নিয়ে যাওয়া দালালচক্রের ইন্ধন রয়েছে বলে ধরনা করা হচ্ছে। দালালচক্রের হাতে বিশাল অংকের টাকা পরিশোধ করে কাতার যাওয়ার পরেও সেকাব উদ্দিনকে সে দেশে পালিয়ে থেকে এবং জেল হাজতে মানবেতর দিন কাটাতে হয়। এদিকে এ অবস্থায় সেকাব উদ্দিন এর পিতা মোঃ আবুল কাশেম কালামার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ নিয়ে একটি গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলামূলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত কর্তৃক বার বার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা আদালতকে অগ্রহ্য করে উপস্থিত হননি। পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য, স্থানীয় তদন্ত, গোপন অনুসন্ধান, সার্বিক বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণ ও কাগজপত্র বিবেচনা করে দালালচক্র কর্তৃক গৃহীত ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বতেকা এবং কাজের বকেয়া বাবদ ৪ হাজার ৩ শত টাকা পরিশোধের রায় দেন।

কিন্তু অধ্যবদি এ টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নিরীহ এই ভিসা গ্রহীতা মোঃ আবুল কাশেম এর পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে প্রকাশ -কাতারে প্রায় ১০-১২ মাস অবস্থানকালে সেকাব উদ্দিনকে মারধর ও না খেয়ে অনেক অনেকরকম হয়রানির করা। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাবে সেকাব উদ্দিনকে কাতার থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে আসার পর এ টাকা দাবি করলে তাদের উপর তিন-চারবার হামলা করে। এ অবস্থায় একবার হামলা করতে আসলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হস্তক্ষেপে ফাঁড়িতে আত্মসমর্পণ করে টাকা ফেরত দিবে বলে অঙ্গিকার করে। পরে ফাঁড়ির এসআই বিষয়টি সমাধান করার জন্য নিদিষ্ট তারিখ দিলেও তারা আর ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ -এ সঙ্ঘবদ্ধ দালালচক্রটি এলাকায় বেশ প্রভাবশালী ও তাদের পক্ষে রয়েছে স্থানীয় একটি মাস্তান বাহিনী। বর্তমানে তারা সব কিছুকে অগ্রাহ্য করে প্রাপ্য টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মোঃ আবুল কাশেম এর পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here