টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ করে গুলি!

0
147

মোহাম্মদ শফি:টেকনাফ প্রতিনিধি:টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি ডাকাত গ্রুপের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেছে। তবে এসময় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া শালবাগান নছিরউল জামান ক্যাম্পে পুলিশ ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা গুলি ছোড়ে। এতে ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মনির। তিনি জানান, ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের জাদিমুড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি জায়গায় শীর্ষ ডাকাত জকির ও সেলিমের গ্রুপের সদস্যরা অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এসময় ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণেরর পর পাহাড়ে দিকে ঢুকে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর সোমবার গভীর রাতে ওই ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী জকির ও সেলিমের গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।

জাদিমুড়া ক্যাম্প সুত্রে জানায়, টেকনাফের জাদিমুড়া ক্যাম্প এলাকার শীর্ষ ডাকাত মোহাম্মদ সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে লাশ পাহাড়ে গুম করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে লাশ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর নজর রাখেন এমন একাধিক দায়িত্বশীল পদস্থ কর্মকর্তা জানান, টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ডাকাত দলের যারা সক্রিয় রয়েছে তারা হল, জাকির ডাকাত, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ কামাল, আমান উল্লাহ, মোহাম্মদ হামিদ, হামিদ মাঝি, খায়রুল আমিন, মাহমুদুল হাসান, হামিদ, নেছার, সাইফুল ওরফে ডিবি সাইফুল, রাজ্জাক, বুল ওরফে বুইল্লা, রফিক, মাহনুর ওরফে ছোট নুর। তারা একাধিক দলে ভাগ হয়ে নানা অপরাধ করছে। তাদের মূল নেতা হিসেবে রয়েছে আবদুল হাকিম ডাকাত। এ ডাকাত গুলোর মধ্যে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে ক্যাম্প এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা বাড়ছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ জাদিমুড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক মাঝি জানান, দিন-দুপুরে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা পুলিশকে ভয় দেখানোর জন্য গুলি বর্ষণ করেছে। প্রায় ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গত রাতেও পাহাড়ি দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন মারা যাওয়ার খবর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ রোহিঙ্গারা খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছে।

টেকনাফ জাদিমুড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি সৈয়দুল আমিন বলেন, জাদিমুড়া ‘ক্যাম্পে গোলাগুলি নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রায় সময়ই সেখানে দিনে-রাতে গুলি বর্ষণের ঘটনা প্রায় সময় ঘটে থাকে। এই ক্যাম্পটি পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় কিছু পাহাড়ি ডাকাত এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ৭ অক্টোবর সোমবার রাতে গোলাগুলির ঘটনায় একজন মারা যাওয়ার খবরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু কোনও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্প ঘিরে সবার মুখে গোলাগুলিতে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করতে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, জাদিমুড়ায় ২৬-২৭ নম্বর ক্যাম্প অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কয়েক দফা ওই ক্যাম্পে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন তারা। অভিযানের সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসী দলের সদস্যরা। সন্ধ্যার পর ক্যাম্প এলাকায় ঢুকতেও ভয় পান অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here