আজ ১০ই মুহররম মহান পবিত্র আশুরা

0
126



মোজাম্মেল হক,সিএনবি ইসলামিক ডেস্ক: ইসলামিকপঞ্জিকা অনুযায়ী মুহররম এর দশম দিনকে আশুরা বলা হয়। এটি ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সুন্নি মতানুযায়ী ইহুদীরা মুছা আ. এর বিজয়ের স্মরণে আশুরার সওম পালন করত। তবে শিয়া মত এ ইতিহাসকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তারা আশুরাকে কারবালার বিষাদময় ঘটনার স্মরণে পালন করে।

এই দিনটি শিয়া মুসলমানদের দ্বারা বেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয়ে থাকে। এ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন ধরনের মিছিল, মাতম ও শোকানুষ্ঠান আয়োজন করে। তবে একটি ক্ষুদ্র অংশ ততবীর পালন করে থাকে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে এসব অনুষ্ঠান চোখে পড়ার মত। যেমন- পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, লেবানন ও বাহরাইন।তবে আশুরা নিয়ে সুন্নি সমাজে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র মহান আশুরা একটি বিশাল প্রাপ্তি।আরবী  মহরমের ১০ তারিখ এই মহান আশুরার দিন ধার্য্য করা হয় আর এই আশুরার দিনে মুসলমানদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় প্রাপ্তি গুলো ঘটেছে। যা আল্লাহ্ সুবাহানাল্লাহ্ তায়ালা নিজে হুকুম করে জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন। আল্লাহ্ স্বয়ং নিজেই জানেন এই ঘটনাবলি সম্পর্কে। এবং তিনি তাঁর হুকুমের মাধ্যমে সকল ফেরেস্তাদের সকল বান্দাদের দোয়ার প্রার্থনা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। যে আল্লহ্ আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা দিয়েছেন সেই আল্লাহ্ তার কুদরত দ্ধারা সকল চাহিদা পূরণ করাবেন।   আজ ইংরেজী ১০ই সেপ্টম্বর বুধবার আরবী ১০ই মুহররম পবিত্র আশুরা।এই দিনে পৃথিবীতে কত মহান কার্য সম্পাদন হয়েছে তা পবিত্র কোরআন পাকে সম্পূর্ণ স্পর্শ লিখা রয়েছে। নিন্মে পবিত্র আশুরা সম্পর্কে বিস্থারিত আলোচনা করা হয়েছে –

আদম (আঃ) গোনাহ্ মাফঃ-সৃষ্টির পর হযরত আদম ও মা হাওয়ার অবস্থান ছিল বেহেশতে। সেখানে তাদের জন্য গন্দমফল খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। শয়তানের প্ররোচনায় আদম ( আঃ) এবং মা  হাওয়া উভয়ই গন্দম ফল খেয়ে ফেলেন।এটি মানুষের আদিপাপ বলে পরিগণিত হয়। এর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদের বেহেশত থেকে বিতাড়ন করেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। এরপর তিরিশ বছর কাঁন্নাকাটি করার পর আল্লাহ্ একটি ঘটনা চক্রে মুহররমের ১০ তারিখ তাকে ক্ষমা করে দেন।

ইদ্রিস (আঃ) কে আসমান তুলে নেয়াঃ-হযরতইদ্রিস (আঃ) যিনি ইসলামী ইতিহাস অনুসারে মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রেরিত দ্বিতীয় নবী। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুসারে তিনি ইসলামের প্রথম নবী আদম(আঃ) -এর পর স্রষ্টার নিকট হতে নবীত্ব লাভ করেন। এই হযরত ইদ্রিস (আঃ) কে আল্লাহ্ তায়ালা  আসমানে তুলে নিয়েছিলেন মুহররমের ১০ তারিখ।

নূহ (আঃ) কে মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেনঃ-নূহ (আঃ) কে তার গৌত্ররা যখন নবী হিসেবে বিশ্বাস করলো না এবং যখন তার উপর সবাই নির্যাতন করতে শুরু করল ঠিক তখনই আল্লাহর হুকুমে একটি বড় জাহাজ তৈরি করে সেই জাহাজে প্রত্যেক জাতি থেকে জোড়া জোড়া তুলে নিতে বলে। এবং শুরু করে দেন মহাপ্লাবন তার জাহাজে থাকা প্রাণি ছাড়া সবাই মারা যায় এবং এই আজাব থেকে হযরত নূহ (আঃ) কে মুক্তি মুহররমের ১০ তারিখ। 

ইব্রাহিম (আঃ) আগুনে পুড়া থেকে রক্ষা পানঃ-হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য আগুনের বড় পুন্ডলিতে ফেলে দিয়েছিল কিন্তু এই আগুন থেকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) রক্ষা পেয়েছিল  মুহররমের ১০ তারিখ।

মূসা (আঃ) আল্লাহর সাথে প্রথম কথা বলেছিলেনঃ-হযরত মূসা (আঃ) এর সাথে আল্লাহ্ সুবহান্নাহ্ তায়ালার সর্ব প্রথম কথা বলেছিলেন এই মুহররমের ১০ তারিখ।
হযরত মূসা (আঃ) নানান মান অভিমান করে সর্ব প্রথম সিনাই পর্বতে হযরত মূসা (আঃ)এর সাথে পাহাড়ের পাদ দেশে এই ঘটনার সম্মখীন হন। পাহাড়টি ছিল তাঁর ডানদিকে ঐ উপত্যকার নাম ছিল’তোয়া’।

আয়ূব (আঃ)কে শেফা দান করেনঃ-হযরত আইয়ূব (আঃ) ছবরকারী নবীগণের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এবং অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। ইবনু কাছীরের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ইসহাক (আঃ)-এর দুই যমজ পুত্র ঈছ ও ইয়াকূবের মধ্যেকার প্রথম পুত্র ঈছ-এর প্রপৌত্র ছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী ছিলেন ইয়াকূব-পুত্র ইউসুফ (আঃ)-এর পৌত্রী ‘লাইয়া’ বিনতে ইফরাঈম বিন ইউসুফ।আল্লাহ্ সুবাহান্নাহ্ তায়ালা তাকে কঠিন রোগে ফেলে দেহে পোঁকা ধরানো, দেহের সব মাংস খসে পড়া, পঁচে – গলে দূর্গন্ধময় হয়ে হওয়ায় ঘর থেকে বের করে জঙ্গলে ফেলে আসা।৩০ বছর ধরে রোগ ভোগ করে অবশেষে তাকে মুহররমের ১০ তারিখ আশুরায় রোগের শেফা দান করেন।

ইয়াকুব (আঃ) এবং ইউসুফ (আঃ) এর সাথে দেখাঃবাল্য কালে তাদের ভাইদের রোষানলে পড়ে হারিয়ে যাওয়া ইউসুফ( আঃ) এবং পিতা ইয়াকুব (আঃ) এর সাথে ৪০ বছর পর দেখা হয় মুহররমের ১০ তারিখ।

ইউনুছ (আঃ) কে মাছের পেট থেকে বের করেনঃ-  আল্লাহর নবী হযরত ইউনুছ (আঃ) কে সাত দিন পর মাছের পেট থেকে বের করেন মুহররমের ১০ তারিখ।   

হোসেন (রাঃ) শাহাদৎ বরণ করেনঃ-মুহররমের ১০ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নাতি হোসাইন (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গী কারবালার ময়দানে এজিদের সৈন্যদের হাতে শহীদ হন

দুনিয়াতে প্রথম বৃষ্টি পাত  হয়ঃ-দুনিয়া সৃষ্টির পর হতে আজ পর্যান্ত সর্ব প্রথম বৃষ্টি বর্ষণ হয় মুহরমের ১০ তারিখ।

প্রথম রহমত পাঠিয়েছিলেনঃ- দুনিয়া সৃষ্টির পর সর্ব প্রথম দুনিয়াতে রহমত বর্ষণ হয় মুহররমের ১০ তারিখ।

১০ মুহররমের ফজিলত সমূহ নিচে দেয়া হলোঃ-★★ যে ব্যক্তি আজকে একটি নফল রোযা রাখবেন আল্লাহ্ তাকে সারা বছর রোযা রাখার মত সোয়াব দান করবেন।
★★ আজ কোন ব্যক্তি গরীব মানুষকে বস্ত্র দান করলে এবং কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে আল্লাহ্ তাকে এমন প্রতিদান দিবেন যা জীবনে শেষ হবে না।

★★ আজকে কোন ব্যক্তি এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে এবং খাবারের ব্যবস্থা করে দিলে তাকে আল্লাহ্ তায়ালা বেহেশতে দস্তরখানা বসিয়ে খাবার দিবেন।

★★আজকে কোন ব্যক্তি গোসল করলে তিনি সমস্ত কঠিন, সহজ রোগ হতে বেঁছে যাবেন।

★★আজকে যারা নিজের পরিবারে জন্য আগের চেয়ে একটু ভাল খাবরের ব্যবস্থা করবেন তাকে আল্লাহ্ তায়ালা সারাজীবন খোলা ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করে দিবেন।

★★ আজকে আল্লাহ্ পাকের কাছে অতীতের গোণাহ্ মাফ চাইলে আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ্ তায়ালা সব গোনাহ্ মাফ করে দিবেন।  ইনশাল্লাহ্।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here